প্রধানমন্ত্রীর বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ জানতে চাইল সংসদীয় কমিটি

সংগৃহীত ছবি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী উড়োজাহাজ বারবার যান্ত্রিক ত্রুটির শিকার হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চেয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠানসম্পর্কিত কমিটি।
আজ সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির ষষ্ঠ বৈঠকে এ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত ২৯ অক্টোবর জাপানের নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঢাকামুখী ফিরতি যাত্রায় প্রায় ৫ ঘণ্টার বিলম্ব হয়েছিল।
রাতে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লিমিটেড এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, পরিচালন কার্যক্রম ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি, সরকারি অর্থের অপচয় রোধ, অনিয়ম দূরীকরণ এবং দীর্ঘদিনের নিরীক্ষা আপত্তি নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজ বারবার যান্ত্রিক ত্রুটির শিকার হওয়ার কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয় বৈঠকে। এ ছাড়া বিমানের উড়োজাহাজ ও যন্ত্রপাতি ক্রয়সংক্রান্ত অনিয়মের দায় নির্ধারণ এবং আইটি সিস্টেমের দুর্বলতার কারণে সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির বিষয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে উত্থাপিত নিরীক্ষা আপত্তির বিপরীতে মোট কত টাকা আদায় হয়েছে; কত টাকা অনাদায়ী রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কতজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়। প্রতিটি নিরীক্ষা আপত্তির বিপরীতে প্রমাণাদিসহ সময়সীমাবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপনের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
কমিটির পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিষয়গুলোর বিস্তারিত লিখিত ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় তথ্য পরবর্তী বৈঠকে উত্থাপনের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেড এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে কমিটির সদস্য হিসেবে হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান ও মোহাম্মদ কামাল হোসেন অংশগ্রহণ করেন।
এ ছাড়া হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (সিজিএ), অতিরিক্ত হিসাব মহানিয়ন্ত্রক, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




