নজরুলের সাহিত্যকর্ম ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম ও জীবনবোধ ‘চার দেয়ালে আবদ্ধ না রেখে মানুষের ঘরে’ পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানালেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার সীমাহীন ইতিবাচক এবং নেতিবাচক প্রভাব আমাদের নতুন প্রজন্মের সামনে একদিকে যেমন জ্ঞানের দ্বার উন্মোচন করে দিয়েছে, অপরদিকে মূল্যবোধ হারিয়ে বিপথগামী হওয়ার পথও উন্মুক্ত করেছে।
‘এমন জটিল বাস্তবতায় কাজী নজরুল ইসলামের ‘আমি হবো সকাল বেলার পাখী/সবার আগে কুসুম বাগে/ উঠবো আমি ডাকি’ কিংবা থাকবো নাকো বদ্ধ ঘরে/দেখবো এবার জগৎটাকে/ কেমন করে ঘুরছে মানুষ/ যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে… এ ধরনের নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন ছড়া বা কবিতা আমাদের উদীয়মান প্রজন্মের সামনে আশা জাগানিয়া আলোকবর্তিকা হয়ে উঠতে পারে’, নজরুলকে অনুসরণের আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী।
‘এ কারণে কবি নজরুলকে নিয়ে আলোচনা মন্ত্রণালয় কিংবা সরকারি অফিসের চার দেয়ালে আবদ্ধ না রেখে তার সাহিত্য কর্ম, তার জীবনবোধ পৌঁছে দিতে হবে মানুষের ঘরে ঘরে’, যোগ করেন তারেক রহমান।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, কর্ম, সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও মানবিক চেতনাবোধের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’ এর বছরব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, নজরুল বর্ষ উদ্যাপনের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে জাতীয় কবির সৃষ্টিকর্ম নতুনভাবে মূল্যায়িত হবে। নজরুল বর্ষের সার্থকতা কামনা করছি।’
সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জুম প্লাটফর্মে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া, কবি আবদুল হাই শিকদার, কবি হাসান হাফিজ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আশরাফ উদ্দিন উজ্জল, হেলাল খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। নজরুল বর্ষ উপলক্ষে স্মারক ডাক টিকিট ও লগো উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ভিন্ন ভাবনা
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে তার (কবি কাজী নজরুল ইসলাম) কবিতা ও গান যেমন ছিল অনুপ্রেরণার প্রবল উৎস, তেমনই আমাদের সব আন্দোলন-সংগ্রামে তার সৃষ্টিশীলতাই হয়ে ওঠে প্রতিবাদ প্রতিরোধের মূল ভাষা। এ কারণেই আমাদের জাতীয় কবির, জীবন ও কর্মের সঙ্গে, গণমানুষ বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের সম্পর্ক আরও গভীর ও নিবিড় করার লক্ষ্যে নানা আয়োজনে নজরুল বর্ষ শুরু হয়েছে।
আমন্ত্রণপত্র প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, আজকের এই অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে লেখা হয়েছে...সকল বিভাগীয় কমিশনার, জেলা এবং নির্বাচিত ৭৪টি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ ভার্চুয়ালি সংযুক্ত থাকবেন।
‘এর পরিবর্তে আমন্ত্রণপত্রে যদি লেখা থাকত “সকল বিভাগীয়, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে নজরুল গবেষক, নজরুলশিল্পী, নজরুলপ্রেমীগণ ভার্চুয়ালি সংযুক্ত থাকবেন” সেটি বরং বেশি যৌক্তিক এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো বলে আমার বিশ্বাস,’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
নজরুল সিটি ঘোষণা প্রসঙ্গে
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এই বাংলাদেশ ভূখণ্ডে জন্ম নেননি। তবে তার হৃদয় জুড়ে ছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশও তাকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসে। কিশোর বেলায় ১৯১৪ সালে তিনি প্রথমবারের মতো ময়মনসিংয়ের ত্রিশালে এসেছিলেন।
‘কবির স্মৃতি বিজড়িত সেই ত্রিশালকে “নজরুল সিটি” ঘোষণার সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর পাশাপাশি সরকার ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত বর্ষটিকে নজরুল বর্ষ ঘোষণা করেছে’, বলছিলেন তারেক রহমান।
নজরুলের প্রয়োজন ফুরানোর নয়
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘মাতৃভূমিকে ভালোবাসার ক্ষেত্রেও তিনি আমাদের অন্যতম প্রধান দিশারি। আমাদের জীবন, আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন, সংগ্রাম, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য তার রচনার মধ্যে মহিমাময় সৌন্দর্য নিয়ে বাক্সময় হয়েছে। কবি নজরুলের সৃষ্টিশীলতার মধ্যে আতিথ্য রয়েছে সব কালের, সব মানুষের। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে তিনি আমাদের অনুপ্রেরণা। প্রাসঙ্গিকতা এবং প্রয়োজন ফুরানোর নয়।’




