দুর্গোৎসবের নিরাপত্তায় আনসার-ভিডিপি, পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে মহাপরিচালক

সংগৃহীত ছবি
শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও উৎসবমুখর রাখতে মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে তদারকি করেছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় উপস্থিত সকলকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়ে উপহার তুলে দেন তিনি। পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে তাকে উত্তরীয় পরিয়ে স্বাগত জানানো হয়। পরিদর্শনকালে পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের কার্যক্রম এবং উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করেন আনসারপ্রধান।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীর সদস্যরা সরাসরি ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখছেন বলে মন্তব্য করেন মহাপরিচালক। তিনি জানান, পূজা উদযাপন কমিটি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে মণ্ডপ কেন্দ্রিক যেকোনো বিশৃঙ্খলা ও সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা হচ্ছে। এবারের পূজায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ এর সমন্বিত তাৎক্ষণিক সাড়াদান সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিজস্ব প্রাঙ্গণে আয়োজিত মণ্ডপগুলোও বাহিনীর মনিটরিং টিমের নিবিড় তদারকির আওতায় রয়েছে জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, এর মাধ্যমে সব পর্যায়ের মণ্ডপে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ ও তা নিশ্চিতকরণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হচ্ছে।
দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ বজায় রাখার নির্দেশনা দেন ডিজি। কোনো ধরনের উসকানি, গুজব বা অপপ্রচারের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দ্রুত ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দেন।
নিরাপত্তা দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আনসার-ভিডিপি সদস্যরা মানবিক সেবায়ও ভূমিকা রাখছেন। মণ্ডপে হারিয়ে যাওয়া শিশুদের উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া, বয়স্ক দর্শনার্থীদের সহযোগিতা করা এবং সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করছেন বাহিনীর সদস্যরা। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা ও নারী উত্যক্তকারীদের প্রতিহত করার পাশাপাশি সন্দেহজনক ব্যক্তিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলা করা হচ্ছে।
ধর্মীয় সম্প্রীতি, জননিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বাহিনীটি অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানান আনসারপ্রধান। প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বশীল সেবা প্রদানের মাধ্যমে উৎসবমুখর পরিবেশ সুরক্ষায় এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তুলে ধরেন তিনি।



