৬৫ পেরোলেই মেট্রোরেলে বিশেষ ছাড়
- এই সুবিধা পাবেন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরাও

ফাইল ছবি
রাজধানীর গণপরিবহনে প্রথমবারের মতো ‘সামাজিক সুরক্ষা’ ভিত্তিক বিশেষ সুবিধা চালুর পথে হাঁটছে সরকার। মেট্রোরেলে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী প্রবীণ যাত্রীদের একক যাত্রা টিকিটে ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড় দিতে সম্মতি দিয়েছে অর্থ বিভাগ। এই সুবিধা পাবেন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরাও।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি নগর পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার বড় নীতিগত পদক্ষেপ।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের এনটিআর, পিপিপি ও এসএমই অনুবিভাগের এনটিআর শাখা-১ থেকে ২০ মে জারি করা এক চিঠিতে এ সম্মতির কথা জানানো হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া হয় এই অনুমোদন।
চিঠিতে বলা হয়, ঢাকা মেট্রোরেলে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী যাত্রী এবং প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের একক যাত্রা টিকিটে ২৫ শতাংশ বিশেষ ছাড় দেওয়ার বিষয়ে অর্থ বিভাগের সম্মতি রয়েছে।
তবে এ ছাড় কার্যকরের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগ কিছু শর্তও আরোপ করেছে। ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর বিধি-১৩ এবং অর্থ বিভাগের জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এ-সংক্রান্ত কোনো বিধি, এসআরও বা প্রজ্ঞাপন জারির আগে নিতে হবে অর্থ বিভাগের মতামত বা পরামর্শ।
পরিবহন খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্বের উন্নত নগর পরিবহন ব্যবস্থায় প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নাগরিকদের জন্য ভাড়া ছাড় চালু রয়েছে বহুদিন ধরে। সেই কাঠামোগত সামাজিক সুবিধার ভিত্তি বাংলাদেশেও তৈরি হলো মেট্রোরেলের মাধ্যমে। এতে প্রবীণদের চলাচল ব্যয় কমবে, পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নগর যাতায়াত হবে আরও সহজ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের সামাজিক ও অর্থনৈতিক— দুই ধরনের গুরুত্ব রয়েছে। একদিকে এটি সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর ব্যবস্থাপনার বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে বাড়তি যাত্রী আকর্ষণের মাধ্যমে বাড়াবে মেট্রোরেলের গ্রহণযোগ্যতাও। বিশেষ করে নির্দিষ্ট আয়ের বাইরে থাকা প্রবীণ নাগরিকদের জন্য এটি আর্থিক স্বস্তির বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে এই সুবিধা।
তবে সুবিধাটি কার্যকর করতে বয়স ও প্রতিবন্ধিতা যাচাই, বিশেষ স্মার্ট কার্ড বা ডিজিটাল ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা এবং অপব্যবহার ঠেকাতে কার্যকর নীতিমালা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যথায় বাস্তবায়নের পর্যায়ে তৈরি হতে পারে জটিলতা।
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেট্রোরেলকে কেন্দ্র করে যদি ভবিষ্যতে শিক্ষার্থী, নিম্নআয়ের শ্রমজীবী কিংবা নিয়মিত যাত্রীদের জন্যও ধাপে ধাপে সামাজিক ভর্তুকিভিত্তিক ভাড়াকাঠামো চালু করা যায়, তাহলে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় আসতে পারে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন।






