তামাকের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় নারী এমপিদের

ছবি: আগামীর সময়
দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাকের ভয়াবহ ছোবল থেকে বাঁচাতে এর বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নারী এমপিরা। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘তামাকবিরোধী নারী এমপিদের ফোরাম’-এর সভায় এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা। সভার সভাপতিত্ব করেন ফোরামের চেয়ারপারসন ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান।
সভায় সেলিমা রহমান বলেছেন, ‘বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম একটি বিষয় ছিল জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও তামাক নিয়ন্ত্রণ। তারই প্রতিফলনস্বরূপ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা হয়। তবে আমরা মনে করি, শুধু আইন পাস করাই যথেষ্ট নয়, তামাক নিয়ন্ত্রণ একটি চলমান যুদ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই যুদ্ধে আমাদের জয় হবেই।’
সভায় ‘তামাকবিরোধী নারী এমপিদের ফোরাম’ সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাশেদা বেগম হীরা, নেওয়াজ হালিমা আরলী, ফরিদা ইয়াসমীন, নিলোফার চৌধুরী মনি, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম, ফাহমিদা হক, ফেরদৌসী আহমেদ, জহরত আদিব চৌধুরী, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মার্মা এবং রেজেকা সুলতানা।
সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তামাক ব্যবহারকারী দেশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি, ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ; যা ভারতে ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ এবং পাকিস্তানে ১৯ দশমিক ১ শতাংশ।
গ্লোবাল এডাল্ট টোব্যাকো সার্ভের (গ্যাটস, ২০১৭) তথ্যমতে, বর্তমানে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহার করে ৩ কোটি ৭৮ লাক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ। আর টোব্যাকো এটলাস ২০২৫-এর তথ্যমতে, তামাক ব্যবহারজনিত রোগে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ মানুষ মৃত্যু বরণ করে এবং পঙ্গুত্ব বরণ করে আরো কয়েক লাখ মানুষ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তামাক খাত থেকে রাজস্ব আয় হয়েছিল প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। পক্ষান্তরে, তামাক ব্যবহারজনিত কারণে মৃত্যু, অন্যান্য স্বাস্থ্য ক্ষতি এবং পরিবেশের ক্ষতি ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রাপ্ত রাজস্বের চেয়ে ক্ষতি দ্বিগুণেরও বেশি। সবমিলিয়ে বাংলাদেশে তামাকের ব্যবহার এবং ক্ষয়ক্ষতি জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং পরিবেশের জন্য ক্রমবর্ধমানভাবে হুমকি সৃষ্টি করছে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলি, নারী সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক লাবিন রহমান ও তামাকবিরোধী ইয়ুথ ফোরামের সদস্য তাসফিয়া নওরীন, রাইসুল ইসলাম ও আশরাফিয়া জান্নাত।






