আবার হাম বাড়ছে মৃত্যু ছাড়াল ৯০০

মায়ের কাঁধে হামে আক্রান্ত শিশু। ছবিটি রাজধানীর শিশু হাসপাতালের -মহুবার রহমান
দেশে হাম-রুবেলার টিকার জাতীয় ক্যাম্পেইন শেষ হয়েছে গত ২০ মে। এর চার সপ্তাহের মধ্যে অর্থাৎ জুনেই হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হয়ে যাওয়ার কথা, কমে আসার কথা হামের সংক্রমণ। কিন্তু বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না। বরং চলতি মাসে দিনে গড়ে ১ হাজার ১৪ জন হামে আক্রান্ত হচ্ছে, যা গত মাসের তুলনায় বেশি। প্রতিরোধযোগ্য হামে মৃত্যুও গত মাসের তুলনায় বেশি দেখা গেছে।
সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া হামের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র উঠে এসেছে। চলতি বছরের মার্চ থেকে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। এ সময় থেকে সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নতুন করে হামের হিসাব রাখতে শুরু করে। তাদের তথ্য বলছে, আগস্টে দৈনিক গড়ে ১ হাজার ১৪ জন হামে আক্রান্ত হচ্ছে, জুলাইতে দিনে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১১ জন। এ ছাড়া আগস্টে এসে দৈনিক গড়ে মৃত্যু হচ্ছে ৪ দশমিক ৩৩ জনের, জুলাইয়ে যা ছিল ৩ দশমিক ৮৩।
কয়েকজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলেছে আগামীর সময়। তারা বলছেন, টিকার কাভারেজ ৯৫ শতাংশের নিচে থাকায় হাম কমছে না। বরং নতুন নতুন জায়গায় হাম দেখা দিচ্ছে। টিকার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠী নতুন করে হামে আক্রান্ত হচ্ছে। আবার হামের টিকা পাওয়ার পরেও অনেক শিশু আক্রান্ত হচ্ছে। তাদের মতে, হাম উপসর্গে যেসব মৃত্যুর কথা বলা হচ্ছে আদতে সেগুলো হামই। কারণ, এসব উপসর্গ হাম ছাড়া অন্য কোনো রোগের সঙ্গে মেলে না।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন বলছিলেন, মার্চ থেকে হাম একইভাবে চলছে। অথচ সরকার জনস্বাস্থ্যের জরুরি অবস্থা স্বীকার করছে না। টিকার কাভারেজ অপর্যাপ্ত হওয়ায় হামের ভাইরাস দুর্বল হয়নি। একই হারে সংক্রমণ ঘটছে। একজন হাম আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে ১২-১৮ জন্য ব্যক্তির মধ্যে সংক্রমণ হতে পারে। পাশাপাশি হাম নিয়ে জনসচেতনতাও তুলনামূলক কম বলে অভিযোগ তার।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাম ও উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁিড়য়েছে ৯০২-এ। তিন বছরের এক শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে গত চার দিন ধরে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ভর্তি। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। গাজীপুরের এই শিশুর মা আকলিমা বেগমের দাবি, তাদের এলাকায় বেশিরভাগ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। প্রতিবেশীদের মধ্যে তিন শিশু মারা গেছে।
হামের চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ৯ মাসের পরিবর্তে ৬ মাস বয়স থেকে ৫ বছর পর্যন্ত শিশুদের হামের টিকা েদওয়া হচ্ছে। শিশুদের টিকার বয়সের পরিধি ৫ থেকে বাড়িয়ে ১২-১৫ বছর করার পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ লেলিন চৌধুরী। তিনি বললেন, ‘হাম নিয়ন্ত্রণে টিকার কাভারেজ বাড়ানোর পাশাপাশি বয়সসীমা বাড়াতে হবে। টিকা পাওয়া শিশুরা কেন হামে আক্রান্ত হচ্ছে, এ বিষয়ে বিশদ গবেষণাও দরকার।’






