কর্মবিরতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা, রোগী ভোগান্তি

সংগৃহীত ছবি
সরকারি নির্দেশনা প্রত্যাখ্যান করে সারা দেশে কর্মবিরতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবিতে মাঝেমধ্যেই আন্দোলন করছিলেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। গত ১৯ মে স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ নতুন করে কিছু নির্দেশনা জারি করলে গতি পায় সেই কর্মসূচি। গত বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া আন্দোলন জোরদার করে সরাসরি কর্মবিরতি শুরু করেছেন গতকাল রবিবার। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সেই নোটিস প্রত্যাহার, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, সরকারি চিকিৎসকদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো প্রণয়নসহ ছয় দাবিতে এ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সমন্বিত ইন্টার্ন চিকিৎসক ঐক্য পরিষদ।
সংগঠনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। ছয় দফা দাবি ও নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য চালিয়ে যাবেন কর্মসূচি।
‘কর্মবিরতির মাধ্যমে এভাবে আন্দোলনে নামতে চাননি চিকিৎসকরা। এতে ব্যাহত হয় চিকিৎসাসেবা। কিন্তু বিদ্যমান কিছু নীতিমালা ও বিধিবিধানে চিকিৎসকদের অবমূল্যায়ন করায় রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন তারা’— ক্ষোভ প্রকাশ করলেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
স্বাস্থ্যের নোটিসের তথ্য উল্লেখ করে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এফসিপিএস প্রশিক্ষণ-সংক্রান্ত বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেখানে রয়েছে ঢাকা মেডিকেল ও সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে কিছু বিভাগে নতুন পদায়ন বন্ধ, উপজেলায় দুই বছর বাধ্যতামূলক সেবাদান এবং মেধাভিত্তিক সীমিত ভাতার বিধান। এর মাধ্যমে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অধিকার ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকেও করা হয়েছে বঞ্চিত।
এ ছাড়া বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর নির্ধারণ, বিএমডিসি আইন-২০২৫-কে অধ্যাদেশের পরিবর্তে পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তর এবং ভুয়া চিকিৎসক পরিচয়দানকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, বিএমডিসি ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সব ভর্তি পরীক্ষার ফি এক হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণ।
রাজধানীর হাসপাতালগুলোর সঙ্গে তালমিলিয়ে দেশের সব বিভাগীয় শহরের পাশাপাশি জেলা পর্যায়েও একই দাবিতে কর্মবিরতির সঙ্গে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এর মধ্যে বড় শোডাউনগুলো হয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোর জরুরি সেবা কার্যক্রম, রোগীদের নিয়মিত পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণসহ বিভিন্ন সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রেও ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে।
প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল ও ময়মনসিংহ অফিসের আগামীর সময় প্রতিবেদকরা




