দিন দিন ডেঙ্গুর দাপট বাড়ছেই

প্রতীকী ছবি
দিন দিন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭২৩ রোগী। এই সপ্তাহে মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালেও আগের তুলনায় ১১৪৯ জন বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন। চলতি সপ্তাহে যার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮৭৭ জনে।
চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২১ হাজার ৫৫০ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের দেওয়া তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন বরিশালে, একজন খুলনায় মারা গেছে। আর জানুয়ারি থেকে ডেঙ্গুতে মারা গেছে ৬৩ ব্যক্তি।
রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে চারদিন ধরে ভর্তি আছে সাত বছরের কামাল হোসেন। মশার ভয়ে দরজা-জানালা বন্ধ রেখেও সন্তানকে সুস্থ রাখতে পারেননি বলে আক্ষেপ করছেন মা রিতা বেগম।
হাম-ডেঙ্গুর ভয়ে পুরো পরিবার দিশেহারা। কোনোভাবেই সন্তানকে নিরাপদ রাখতে পারছি না— যোগ করেন কামাল হোসেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ইকবাল বলছেন, বর্ষা মৌসুমে মশার প্রজনন বেশি থাকে। সাধারণত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে বর্ষাকাল প্রলম্বিত হলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তখন অক্টোবর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগীর দেখা মিলতে পারে। এমনকি গত কয়েক বছর ধরে এই প্রবণতা দেখা গেছে।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত এবং মৃত্যু সবচেয়ে বেশি ঢাকায়। এরপরে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে রোগী বেশি। সম্প্রতি খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। রোগীর তুলনায় মৃত্যুও এই বিভাগে। এই বিভাগে মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্তের ২৮৪৮ জন। মারা গেছে ১৩ জন।
বর্ষায় আক্রান্ত ও মৃত্যু বাড়ে বলে সরকারও এই সময়ে এসে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও মৃত্যু ঠেকাতে তৎপর হয়ে ওঠে, নানা পদক্ষেপও নিয়ে থাকে বলে জানালেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন।
সারা বছর মশার উৎস ধ্বংস না করে মৌসুমভিত্তিক কর্মসূচিতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। উলটো পুরো দেশই এখন ডেঙ্গুর মারাত্মক ঝুঁকিতে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে সারা বছর একই গুরুত্ব দিয়ে এ কার্যক্রম চালাতে হবে— যোগ করেন মুশতাক হোসেন।





