৮ বছর পর চা বাগানে ভোট, অংশ নিচ্ছে ৬০০ প্যানেল
- ভোট দেবেন ৯৮ হাজার শ্রমিক
- ২৯ নভেম্বর সকাল ৮টা-বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দেশের ২৩১টি চা বাগান পঞ্চায়েতে ছয় শতাধিক প্যানেল নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন। আগামী ২৯ নভেম্বরের এ নির্বাচনে ভোট দেবেন ৯৮ হাজার শ্রমিক। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন সাড়ে তিন হাজারের বেশি প্রার্থী। গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর প্রায় ১০ লাখ চা শ্রমিকের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে নির্বাচনী আমেজ।
চা শ্রমিক ইউনিয়নের তথ্যমতে, দেশে ১৬৭টি মূল ও ৬৪টি ফাঁড়ি চা বাগান রয়েছে। প্রতিটি বাগানে রয়েছে একটি করে পঞ্চায়েত। এসব পঞ্চায়েতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ নির্বাচিত হবে ১৫ সদস্যের প্যানেল। একই দিনে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং দেশের সাতটি ভ্যালির নেতৃত্ব নির্বাচনেও করা হবে ভোটগ্রহণ।
কেন্দ্রীয় সভাপতি পদে রামভাজন কৈরী, রাজু গোয়ালা ও পঙ্কজ কন্দ এবং সাধারণ সম্পাদক পদে নিপেন পাল ও পরেশ কালিন্দির নেতৃত্বাধীন প্যানেল নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থিতা ঘোষণা করবেন ভ্যালি ও পঞ্চায়েত পর্যায়ের নেতারাও। আগামী ২৯ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ।
চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাতটি ভ্যালি হলো লস্করপুর, বালিশিরা, মনু-ধলাই, লংলা, জুড়ী, সিলেট ও চট্টগ্রাম। প্রতিটি ভ্যালির অধীনে রয়েছে ২৫-৩০টি বাগান পঞ্চায়েত। বাগানপর্যায়ে পঞ্চায়েত শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব করে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আলাদা দুটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।
হবিগঞ্জ জেলায় মূল ও ফাঁড়ি মিলিয়ে রয়েছে ৪১টি চা বাগান। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর জেলা জুড়ে শ্রমিকদের মধ্যে ভোটের আমেজ দেখা দিয়েছে।
মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া খাইরুন আক্তারের ভাষ্য, আট বছর ধরে নির্বাচন না হওয়ায় কমিটিগুলোতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। নির্বাচন হলে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা বাড়বে।
দারাগাঁও বাগানের চা শ্রমিক রনি গোয়ালা জানালেন, নির্বাচনে এমন নেতৃত্ব চান, যারা শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্ট বুঝবেন। মজুরি বৃদ্ধি, নিয়মিত বেতন ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের প্রত্যাশা অনেক।



