নিরাপদ অভিবাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় পুরস্কার

অভিবাসী কর্মীদের অধিকার, প্রতারণা ও শোষণের চিত্র তুলে ধরায় চার সাংবাদিককে ‘মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি (বিএনডব্লিউএলএ)।
অভিবাসী কর্মীদের অধিকার, নিরাপদ অভিবাসন এবং ন্যায়বিচার প্রাপ্তির বিষয়গুলোতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করতে চার সাংবাদিককে পুরস্কৃত করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি (বিএনডব্লিউএলএ) আয়োজিত ‘মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’-এর মাধ্যমে তাঁদের এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
রবিবার ঢাকার একটি হোটেলে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ী সাংবাদিকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। সুইজারল্যান্ড সরকারের অর্থায়নে এবং হেলভেটাস বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়িত ‘স্ট্রেনদেনড অ্যান্ড ইনফর্মেটিভ মাইগ্রেশন সিস্টেমস’ প্রকল্পের অ্যাকসেস টু জাস্টিস কার্যক্রমের আওতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনডব্লিউএলএর সভাপতি অ্যাডভোকেট সীমা জহুর। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির পরিচালক মো. আশরাফুল হক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমেদুল হক।
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ওপর প্রশিক্ষণ শেষে দেড় মাস ধরে সংবাদ প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ উদ্যোগের আওতায় জমা পড়া ১৭টি প্রতিবেদনের মধ্য থেকে চারটি প্রতিবেদন পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়।
পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিকেরা হলেন বাংলা স্ট্রিমের স্টাফ রিপোর্টার তৌফিক হাসান, চ্যানেল আইয়ের নিজস্ব প্রতিবেদক রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ, সমকালের জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক মো. শাহেরীন আরাফাত এবং বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের মাছুম কামাল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আহমেদুল হক এ উদ্যোগের জন্য বিএনডব্লিউএলএকে ধন্যবাদ জানান এবং পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, সরকার প্রতিবছর নির্দিষ্টসংখ্যক কর্মীকে বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করে। বর্তমান সরকারেরও এ ধরনের লক্ষ্য রয়েছে। তবে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে গন্তব্য দেশের ঝুঁকি যাচাই, দক্ষতা উন্নয়ন ও ভাষাশিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মন্ত্রণালয়ের গবেষণার সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে আহমেদুল হক বলেন, সেখানে কোনো গবেষণা সেল নেই। দৈনন্দিন বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় সামলাতে গিয়ে গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের তথ্যসমৃদ্ধ, অনুসন্ধানমূলক ও গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুরস্কারের জুরি বোর্ডের সদস্য ও প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব কাজী আবুল কালাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাইফুল আলম চৌধুরী এবং চ্যানেল আইয়ের প্রধান বার্তা সম্পাদক মাশরুর জামান।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএমইটির পরিচালক নাজমুল ইসলাম সরকার, বাংলাদেশ আইন সহায়তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রিফাত আরা সুলতানা এবং হেলভেটাস বাংলাদেশের প্রকল্প সমন্বয়কারী (সিমস) সাজ্জিদ আহমেদ।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে এবং গন্তব্য দেশে অভিবাসী কর্মীদের নানা ধরনের গুরুতর সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। প্রতারণা ও শোষণের শিকার হওয়ার পাশাপাশি আইনি সহায়তা এবং ন্যায়বিচার পেতেও তাঁদের বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হতে হয়।
বক্তারা আরও বলেন, অভিবাসী কর্মীদের অধিকার সুরক্ষা এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। এ ক্ষেত্রে প্রমাণভিত্তিক ও নৈতিক সাংবাদিকতার পাশাপাশি আরও অনুসন্ধানী ও গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। অভিবাসীদের সমস্যা, অধিকার লঙ্ঘন এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে বিদ্যমান বাধাগুলো অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে তুলে ধরার ওপরও তাঁরা গুরুত্ব দেন।



