ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনকে জাতীয় নির্বাচনের মতো গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে : সিইসি

সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন। ফাইল ছবি
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে জাতীয় নির্বাচনের মতো সমান গুরুত্ব দিয়ে আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, এ নির্বাচনে প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি নেই। ভোটারদের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি এবং সব প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে উপনির্বাচনের কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল পর্যবেক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করে ১০ সেপ্টেম্বর উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সিইসি সাংবাদিকদের বলেছেন, আমরা ভালো নির্বাচনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই।
নির্বাচন কমিশনের মূলনীতি স্বচ্ছতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব কার্যক্রম স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করা এবং সবার কাছে দৃশ্যমান রাখাই আমাদের লক্ষ্য।
ঠাকুরগাঁওয়ের নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতার কোনো নেতিবাচক প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি জানিয়ে সিইসি বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত মারামারি, সংঘর্ষ কিংবা সহিংসতার বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন নজরে আসেনি। তবে কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি এরই মধ্যে সমাধান করা হয়েছে।
তিনি বলেছেন, সরকারদলীয় প্রার্থীর জনসভার স্থানে ব্যানার টাঙানো নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল। সেগুলো সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি চিকিৎসকদের দিয়ে স্বাস্থ্যশিবির আয়োজন করে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ পাওয়ার পর ওই স্বাস্থ্যশিবিরও বন্ধ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি তুলে ধরে তিনি বলেন, পুলিশ প্রশাসন, বিচার বিভাগ, আনসার, বিজিবিসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ রয়েছে। নির্বাচন কমিশনার ও সচিব প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তাও প্রার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে সিইসি বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছেন। এ ছাড়া নির্বাচনে ২১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় এবার বেশি বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ভোটকে উৎসবে পরিণত করার প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে যেন মারামারি, হানাহানি কিংবা সহিংসতা না ঘটে। মানুষ যেন আনন্দের সঙ্গে ভোট দিতে পারেন, সেই নির্বাচনী সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চায় কমিশন।
উপনির্বাচনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভাই ও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আব্দুল আলীম নিজামী (বটগাছ) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।



