১ বছরেই ‘সার্বভৌম এআই’ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় সরকার

প্রযুক্তি কূটনীতি ও জনসেবা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (এআই) দেশের কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ১২ মাসের মধ্যে নিজস্ব নিয়ন্ত্রণাধীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা বা ‘সার্বভৌম এআই’ গড়ে তোলার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ) ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে ‘এআই অ্যান্ড ইনোভেশন ডায়ালগ’ শীর্ষক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার এটি অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার সেগুনবাগিচায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিলনায়তনে।
প্রধান অতিথি ছিলেন জনপ্রশাসনবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিটের প্রধান মো. ইসমাইল জবিহুল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. ইসমাইল জবিহুল্লাহ এআইয়ের সুফল কাজে লাগাতে সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জনসেবা প্রদানকারী বিভিন্ন খাতের মধ্যে কার্যকর আন্তঃসংযোগ ও তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব তুলে ধরলেন তিনি।
বিশেষ অতিথি রেহান আসিফ আসাদ বলেন, জনগণের জন্য ডিজিটাল সুবিধা নিশ্চিত করতে উন্নত ডিজিটাল ডিভাইস ও কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এআই ও উদ্ভাবনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের অগ্রগতিও তুলে ধরেন তিনি।
রেহান আসিফ আসাদ জানান, উচ্চগতির ও নিরাপদ সংযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। আগামী ১২ মাসের মধ্যে নিজস্ব নিয়ন্ত্রণাধীন এআই ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। এ ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং চিপ ও মেমোরি ব্লক এরই মধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এআই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে। প্রযুক্তিকে দেশীয় সক্ষমতায় রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপে সরকারের সহায়তা এবং অর্থনৈতিক কূটনীতিকে নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ঢাকা ও সিলিকন ভ্যালির ব্যবধান কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির অর্থ শুধু প্রযুক্তির ক্রেতা হওয়া নয়, বরং বাংলাদেশকে প্রযুক্তির নিট সরবরাহকারী হিসেবে গড়ে তোলা। এআই ও অটোমেশনের মাধ্যমে মানুষের কর্মসংস্থান সংকুচিত না করে মানুষের সক্ষমতা ও ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বও তুলে ধরেন শামা ওবায়েদ।
লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতায় প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করাও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। কৃষক থেকে নারী উদ্যোক্তা পর্যন্ত সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জীবন ও অর্থনীতিতে এআইয়ের সুফল পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির তার বক্তব্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পোশাকশিল্প ও রেমিট্যান্স খাতের অবদানের কথা তুলে ধরেন। বললেন, ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনে এসব খাতের পাশাপাশি জ্ঞানভিত্তিক কর্মী তৈরি করা প্রয়োজন।
‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের উন্মুক্ততার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন। এআইসহ নতুন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন হুমায়ুন কবির।
বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন হুমায়ুন কবির। দ্রুত প্রযুক্তি গ্রহণের মাধ্যমে দেশের জনগণ যাতে এর সুফল পায়, সে লক্ষ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, এটি ধারাবাহিক ‘এআই অ্যান্ড ইনোভেশন ডায়ালগ’-এর তৃতীয় পর্ব। এর আগে ২০২৬ সালের জুনে ‘বাণিজ্য, প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনীতি’-বিষয়ক সম্মেলনের মধ্য দিয়ে এ ধারাবাহিক সংলাপের সূচনা হয়। এবারের আয়োজনে প্রযুক্তি কূটনীতি ও জনসেবা ব্যবস্থায় এআইকে জাতীয় অগ্রাধিকারের কেন্দ্রে রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।



