আব্বাসউদ্দীন স্মরণে ছায়ানটে শ্রোতার আসর

ছবি: আগামীর সময়
বাংলা লোকসংগীতকে নাগরিক শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পথিকৃৎ কিংবদন্তিতুল্য শিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ শ্রোতার আসরের আয়োজন করেছে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ছায়ানট মিলনায়তনে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। আসরে সংগীত পরিবেশন করেন প্রিয়ন্তু দেব, সুমন মজুমদার, মোছা. শরিফা খাতুন, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস, মো. আবুল কালাম আজাদ, চন্দনা মজুমদার ও কিরণ চন্দ্র রায়।
অনুষ্ঠানের সূচনা কথনে ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী বলেন, ‘আব্বাসউদ্দীন আহমদের সবচেয়ে বড় কাজ হলো, তিনি সমৃদ্ধ লোকগীতিকে বাংলার নাগরিক শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁর গাওয়া অনেক গান সময়কে অতিক্রম করে আজও কালজয়ী হয়ে আছে। কয়েক দশক পেরিয়েও এসব গানের জনপ্রিয়তা অটুট রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আব্বাসউদ্দীন আহমদের কাজের গুরুত্ব ও ব্যাপ্তি বোঝা যায়।’
কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে আব্বাসউদ্দীন আহমদের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ছিল উল্লেখ করে সারওয়ার আলী বলেন, ‘আব্বাসউদ্দীনের প্রেরণা, উৎসাহ ও বারবার তাগিদে নজরুল অনেক ইসলামী গান রচনা করেন। ‘রমজানের ওই রোজার শেষে’ গানটি আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। গানটির জনপ্রিয়তার পেছনে আব্বাসউদ্দীন আহমদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।’
‘আল্লাহ মেঘ দে পানি দে’-র মত কালজয়ী গানের কথা তুলে ধরে সারওয়ার আলী বলেন, ‘এত দশক পার হয়ে যাওয়ার পরও এসব গানের আবেদন ও জনপ্রিয়তা এতটুকু কমেনি। তিনি লোকগীতিকে এর সমগ্রতায় মানুষের সামনে তুলে ধরেছিলেন।’
অনুষ্ঠানে একে একে শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে আয়োজন। শুরুতে প্রিয়ন্তু দেব পরিবেশন করেন ‘এ কোন মধুর শরাব দিলে’ এবং ‘বসিয়া নদীকূলে, এলোচুলে কে উদাসিনী’। গান দুটির রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম। সুমন মজুমদার পরিবেশন করেন ‘খাতুনে-জান্নাত ফাতেমা জননী’, ‘তোমার আকাশে উঠেছিল চাঁদ’ ও ‘সাধ জাগে মনে পরজীবনে’। শরিফা খাতুনের পরিবেশনায় ছিল ‘ফাঁদে পড়িয়া বগা’ ও ‘ও কি একবার আসিয়া’। প্রথম গানটি সংগৃহীত এবং দ্বিতীয়টির রচয়িতা আবদুল করিম।
বিমান চন্দ্র বিশ্বাস পরিবেশন করেন ‘আমায় এত রাতে ক্যানে ডাক দিলি’, ‘গুরুর পদে প্রেম ভক্তি হল না মন’ ও ‘আমার হাড় কালা করলাম রে’। প্রথম ও তৃতীয় গানটির কথা জসীম উদ্দীনের এবং সুর সংগৃহীত। দ্বিতীয় গানটির কথা সংগৃহীত, সুর করেছেন কানাই লাল শীল। মো. আবুল কালাম আজাদের পরিবেশনায় ছিল ‘নদীর কূল নাই কিনার নাই রে’, ‘ও কি গাড়িয়াল ভাই’ ও ‘আবো নওদারিটা মরিয়া’। প্রথম গানটির রচয়িতা জসীম উদ্দীন। বাকি দুটি গান সংগৃহীত।
চন্দনা মজুমদার পরিবেশন করেন ‘প্রাণ সখী রে’, ‘নদীর নাম সই অঞ্জনা’ ও ‘ওই না মাঝবী বনেতে লুকাইছে’। ‘প্রাণ সখী রে’ গানটির রচয়িতা জসীম উদ্দীন। ‘নদীর নাম সই অঞ্জনা’ গানটির কথা কাজী নজরুল ইসলামের, সুর আব্বাসউদ্দীন আহমদের। ‘ওই না মাঝবী বনেতে লুকাইছে’ গানটির কথা সংগৃহীত, সুর গ্রাম্য। কিরণ চন্দ্র রায়ের পরিবেশনায় ছিল ‘ও পরানের মাঝি’, ‘কোনবা রঙে বাইন্ধাছো ঘরখানি’ ও ‘আল্লাহ মেঘ দে পানি দে’। ‘ও পরানের মাঝি’ গানটির কথা আশুতোষ চৌধুরীর, সুর চিত্ত রায়ের। ‘কোনবা রঙে বাইন্ধাছো ঘরখানি’ গানটি সংগৃহীত। ‘আল্লাহ মেঘ দে পানি দে’ গানটির কথা সংগৃহীত, সুর গিরিশ চক্রবর্তীর।
অনুষ্ঠানে সংগীতশিল্পীদের সঙ্গে বাদ্যযন্ত্রে ছিলেন তবলায় গৌতম কুমার সরকার, দোতারায় রতন কুমার রায়, ঢোলে দশরথ দাস, বাঁশিতে মামুনুর রশীদ এবং মন্দিরায় প্রদীপ কুমার রায়।



