‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর প্রদর্শনী স্থগিত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১০ সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিবাদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বনলতা এক্সপ্রেস ছবির প্রদর্শনী স্থগিত। ছবি : আগামীর সময়
তানিম নূর পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদ জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১০টি সাংস্কৃতিক সংগঠন।
বিবৃতিতে সংগঠনগুলো তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশ ফিল্ম সার্টিফিকেশন আইন, ২০২৩ অনুযায়ী সরকারের পক্ষ থেকে প্রদর্শনের অনুমতিপ্রাপ্ত। ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশে এর প্রদর্শনী প্রশংসিতও হয়েছে। এই চলচ্চিত্রের নির্মাতা তানিম নূরও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান। নিজ জন্মভূমিতে তার নির্মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শন করতে না পারা অত্যন্ত দুঃখজনক।
সকলের মতপ্রকাশের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি কোনো মহলবিশেষের অগণতান্ত্রিক আচরণ, অসহনশীলতা ও উগ্রতার তীব্র নিন্দা জানান সাংস্কৃতিক কর্মীরা।
বিবৃতিতে বলা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির উদ্যোগে গত ৩০ মে অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে তানিম নূর পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু একটি মহল ধর্মীয় আবেগের ভুল ব্যাখ্যা তৈরি করে চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালায়। এর প্রেক্ষিতে ভেন্যু কর্তৃপক্ষ পূর্বানুমতি প্রত্যাহার করায় প্রদর্শনীটি স্থগিত করা হয়। একই দিন কসবা উপজেলার তালতলা গ্রামে স্থানীয় তরুণরা চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের উদ্যোগ নিলে স্থানীয় প্রশাসনের অযাচিত হস্তক্ষেপে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই দুটি ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁ, আল মাহমুদসহ অসংখ্য গুণীজনের স্মৃতিধন্য পুণ্যভূমি। বছরের পর বছর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে সাংস্কৃতিক চর্চায় অনবদ্য অবদান রেখে আসছেন এ জেলার কৃতিসন্তানরা। সাংস্কৃতিক রাজধানীখ্যাত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী স্থগিতের ঘটনা আমাদের গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।
সাংস্কৃতিক কর্মীরা বলেছেন, আমরা চলচ্চিত্রকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পমাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করি। যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। আমরা সুস্থ, সুন্দর ও সৃজনশীল চলচ্চিত্রধারার পক্ষে। চলচ্চিত্র দেশ, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমস্যা, দেশপ্রেম, বাস্তবতা এবং মানবিক মূল্যবোধ জনগণের কাছে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকারের চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের অনুমতি নিয়েই ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রটি জনসমক্ষে প্রদর্শিত হচ্ছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তার কন্যাসহ প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে একটি চলচ্চিত্র উপভোগ করেছেন, যা চলচ্চিত্রের প্রতি তার গভীর অনুরাগের বহিঃপ্রকাশ। এমন বাস্তবতায় চলচ্চিত্রের প্রতি কারও বৈরি দৃষ্টিভঙ্গি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত।
বিবৃতিদাতারা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের আহ্বায়ক আবদুন নূর ও সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট নাসির মিয়া; খেলাঘর জেলা সাধারণ সম্পাদক নীহার রঞ্জন সরকার; উদীচী জেলা সংসদের সভাপতি জহিরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস রহমান; জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মানবর্দ্ধন পাল ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাসুদ-উর-রহমান; বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ জেলা সভাপতি শোভা সেন ও সাধারণ সম্পাদক সাথী চৌধুরী।
এ ছাড়া রয়েছেন আবরণী সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিচালক হাবিবুর রহমান পারভেজ ও সহকারী পরিচালক শারমিন সুলতানা; কবির কলমের সভাপতি হুমায়ুন কবির ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন শিপন; চারণের সংগঠক ডা. প্রেমানন্দ দাস; সোনালি সকালের সভাপতি ফাহিম মুনতাসির ও সাধারণ সম্পাদক সানিউর রহমান এবং আজকের সংস্কৃতি সংগঠনের জেলা সভাপতি মুস্তাফা জাফরি হামিম ও সাধারণ সম্পাদক সর্পা মিত্র ভৌমিক।






