সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতেন আবুল কাসেম ফজলুল হক

ছবি: আগামীর সময়
বাংলা একাডেমির সভাপতি, প্রাবন্ধিক ও বুদ্ধিজীবী প্রয়াত অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন ও পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে আয়োজিত সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন গবেষক অধ্যাপক মনসুর মুসা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির উপপরিচালক সায়রা হাবীব।
সভার শুরুতে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আলোচনায় অংশ নেন প্রাবন্ধিক ও গবেষক অধ্যাপক মোর্শেদ শফিউল হাসান, প্রাবন্ধিক ও গবেষক অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক, প্রাবন্ধিক ও গবেষক অধ্যাপক মাহবুব বরহান, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক আফজালুল বাসার এবং পরিবারের সদস্য, গবেষক অধ্যাপক শুচিতা শারমিন।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম বললেন, অধ্যাপক হক শ্রদ্ধার আসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তার প্রধান পরিচয়, তিনি একজন উদারনৈতিক মানবতাবাদী বুদ্ধিজীবী। দেশ ও জাতির কল্যাণভাবনা তার সামগ্রিক মনন ও চিন্তায় আজীবন প্রাধান্য বিস্তার করেছিল। তিনি ছিলেন একাধারে শিক্ষক, লেখক, রাষ্ট্রচিন্তক ও দার্শনিক। অল্প বয়সেই তিনি মননের গভীরতা অর্জন করেছিলেন। তার চিরতারুণ্য সবাইকে উদ্দীপ্ত করেছে। দেশই ছিল তার ধ্যান-জ্ঞান-সাধনা। শিক্ষক হিসেবে তিনি তার শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞানের আলো জ্বালিয়ে গেছেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নিতাই রায় চৌধুরী বললেন, ‘অধ্যাপক হক একজন মহান শিক্ষক। তিনি দেশের শ্রমিক, কৃষক ও মেহনতি মানুষের মুক্তি কামনা করেছেন সবসময়। তিনি জনগণের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতেন।’
অধ্যাপক শুচিতা শারমিন বলেছেন, ‘অধ্যাপক হকের নিজস্ব চিন্তা-ভাবনার জগৎ ছিল। নিজের দর্শনকে তিনি লেখার মাধ্যমে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন। লেখার মধ্য দিয়েই তিনি দেশপ্রেমকে জাগ্রত রেখেছেন।’
সভাপতির বক্তব্যে মনসুর মুসা বলেছেন, ‘অধ্যাপক হক ছিলেন একজন অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তচিন্তার মানুষ। এটাই ছিল তার আজীবনের আদর্শ। তার স্মৃতিগুলো আমাদের সংরক্ষণ করতে হবে। তার চিন্তাচেতনা, বিশ্বাস, জীবনবোধ ও কর্ম আমাদের অনুপ্রেরণা জোগাবে।’




