তায়েব সালিহর উপন্যাস
‘উত্তরে অভিবাসনের মওসুম’ নিয়ে আলোচনা সভা

আধুনিক আরবি সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লেখক তায়েব সালিহ-এর আলোচিত উপন্যাস ‘উত্তরে অভিবাসনের মওসুম’-এর প্রকাশনা অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীর-এর ভাষান্তরে প্রকাশিত বইটি নিয়ে বুধবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনের জামান টাওয়ারে আয়োজন করে বেঙ্গলবুকস।
আলোচনায় লেখক ও অনুবাদক রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী উল্লেখ করেন, সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য এমন আয়োজন প্রশংসার দাবি রাখে। তিনি বইটির অনুবাদক নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীরকে ধন্যবাদ জানান। তার ভাষ্য, অনুবাদের ক্ষেত্রে কোন বই বেছে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে অনুবাদক ও প্রকাশক উভয়েরই সচেতন থাকা প্রয়োজন।
তিনি জানান, লন্ডনে ছাত্রজীবনে তায়েব সালিহর এই উপন্যাস তার পাঠ্য ছিল এবং লেখকের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সাক্ষাৎও হয়েছিল, যা ছিল স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
অনুবাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বইটি সরাসরি আরবি থেকে নয়, ইংরেজি ভাষান্তর থেকে বাংলায় অনূদিত হয়েছে। তবে ইংরেজি অনুবাদক ডেনিস জনসন-ডেভিস-এর ‘সিজন অব মাইগ্রেশন টু দ্য নর্থ’ আরবি মূলের খুব কাছাকাছি বলে তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে বাংলা অনুবাদকেও তিনি সফল বলে মন্তব্য করেন।
কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক দিলওয়ার হাসান বলেন, বইটির মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে আফ্রিকান সাহিত্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো। তিনি জানান, একই লেখকের আরও বই ভবিষ্যতে বেঙ্গলবুকস থেকে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
তার মতে, ভাষা ও বিষয়বস্তুর দিক থেকে উপন্যাসটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, অনুবাদকও সেটি দক্ষতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন। উপন্যাসজুড়ে পরিচয় সংকট ও যৌনতার বিষয়টি প্রবলভাবে উপস্থিত থাকায় একসময় বইটি নিষিদ্ধ হয়েছিল। তবে সেই নিষেধাজ্ঞা পাঠকের আগ্রহ থামাতে পারেনি। বর্তমানে এটি পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আফ্রিকান সাহিত্য পাঠক্রমে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কবি সৈকত হাবিব বলেন, ‘সিজন অব মাইগ্রেশন টু দ্য নর্থ’-এর আগে তায়েব সালিহর ‘দ্য ওয়েডিং অব জেইন’ প্রকাশিত হয়, যা পরে চলচ্চিত্রে রূপ নেয় এবং ১৯৭৬ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘বান্দারশাহ’ও লেখকের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলোর একটি।
অনুবাদ প্রসঙ্গে সৈকত হাবিব মন্তব্য করেন, নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীর অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় বইটি অনুবাদ করেছেন। তার কাছে এটি অনুবাদ সাহিত্য বলে মনে হয়নি। উপন্যাসে যৌনতার বিষয়গুলোও অনুবাদক দ্বিধাহীনভাবে উপস্থাপন করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুবাদক নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীর অনুষ্ঠানে বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি বিশ্বসাহিত্য পড়েন। পাঁচ বছর আগে তায়েব সালিহ সম্পর্কে জানার পর তার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। পরে উপন্যাসটির পিডিএফ সংগ্রহ করে অনুবাদের কাজ শুরু করেন। তার ভাষ্য, এটি তিনি শুধু অনুবাদ করেননি, উপভোগও করেছেন।
তিনি বইটির প্রচ্ছদ, সম্পাদনা ও প্রকাশনার মানের জন্য বেঙ্গলবুকসের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সম্পাদক আরিফুল হাসান এবং কর্ণধার আজহার ফরহাদ-কে।
আজহার ফরহাদ জানান, বইটি ২০২৬ সালের বইমেলায় প্রকাশের পরিকল্পনা থাকলেও সম্পাদনার কাজের কারণে কিছুটা দেরি হয়েছে। তিনি বলেন, প্রকাশনায় ভুলত্রুটি এড়াতে তারা দীর্ঘ সময় নিয়ে কাজ করেন এবং বইকে যতটা সম্ভব ত্রুটিমুক্ত করার চেষ্টা করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মোজ্জাম্মেল হক নিয়োগী, কবির চান্দ ও আরিফুল হাসান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন তৌহিদ ইমাম।






