‘নজরুলের গানে মাতোয়ারা ঢাকা’

ছবি: আগামীর সময়
আজ থেকে একশ বছর আগে, ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রথমবারের মতো এসেছিলেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। একই সময়ে ঢাকার বুকে জ্ঞানের আলোকশিখা জ্বালিয়ে মুক্তির পথ অনুসন্ধানে যাত্রা শুরু করেছিল মুসলিম সাহিত্য সমাজ তথা ‘শিখা’ গোষ্ঠী।
মুক্তবুদ্ধি ও বিদ্রোহী তারুণ্যের সেই অনন্য সম্মিলনের শতবর্ষ স্মরণ করে ছায়ানট আয়োজন করেছে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘নজরুলের গানে মাতোয়ারা ঢাকা’। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় ছায়ানট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ‘নজরুলের গানে মাতোয়ারা ঢাকা’।
দুই পর্বের এ আয়োজনে গান, আবৃত্তি ও নৃত্যের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয় জাতীয় কবিকে। ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসার স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। প্রথম পর্বে একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন মাহমুদা আখতার ও দেওয়ান সাইদুল হাসান।
লাইসা আহমদ লিসা বলেন, নজরুলের ঢাকায় আগমন ও ‘শিখা’ গোষ্ঠীর সঙ্গে তার সংযোগের স্মৃতি এ আয়োজনকে দিয়েছে আলাদা তাৎপর্য। ১৯২৬ সালে মুসলিম সাহিত্য সমাজের মাসিক আলোচনা সভায় যোগ দিয়েছিলেন তারুণ্যের কবি কাজী নজরুল। সভায় তিনি গান শুনিয়েছেন, কবিতা শুনিয়েছেন। সেই স্বল্পকালের সম্মিলনে নজরুল ও ‘শিখা’ গোষ্ঠী পরস্পরকে জেনেছিল নিবিড়ভাবে। পরের বছর মুসলিম সাহিত্য সমাজের বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দিতে আবার ঢাকায় আসেন নজরুল। সে আয়োজনে গান গেয়ে যেমন, তেমনি প্রায় এক মাস ঢাকায় থেকে অনেককে গান শিখিয়েও সবার মধ্যে সঞ্চার করেছিলেন বিপুল প্রভাব।
শত বছর আগে ঢাকার সেই নবীনদের সংঘ যে নতুন চিন্তা ও সমাজমুক্তির আদর্শের জন্ম দিয়েছিল, তারই বন্দনায় গান ও কবিতায় ঢাকাবাসীর চিত্ত আলোড়িত করেছিলেন নবযৌবনের কবি কাজী নজরুল ইসলাম। সেই মুক্তবুদ্ধি, মানবমুক্তি ও বিদ্রোহী তারুণ্যের ঐতিহাসিক সম্মিলনের শতবর্ষ স্মরণেই ছায়ানটের এ আয়োজন বলে জানান ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক।
অনুষ্ঠানে ছায়ানটের শিল্পীরা সমবেত গান ও নৃত্য পরিবেশন করেন ‘ওঁঠ্ রে চাষী, জগৎবাসী, ধর্ ক’ষে লাঙল’ ও ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু’। সমবেত কণ্ঠে পরিবেশিত হয় ‘চল্ চল্ চল্’। একক সংগীত পরিবেশন করেন গার্গী ঘোষ— ‘আসিল কে গো অতিথি উড়ায়ে নিশান’ এবং শাহীন সামাদ— ‘এত জল ও-কাজল চোখে’।
দ্বিতীয় পর্ব সাজানো হয় একক সংগীতের পরিবেশনা দিয়ে। এতে সংগীত পরিবেশন করেন বিজন চন্দ্র মিস্ত্রী—‘বাগিচায় বুলবুলি তুই’, ঐশ্বর্য সমাদ্দার—‘আমি কি সুখে লো’, রেজাউল করিম—‘বসিয়া নদী কূলে’, মিরাজুল জান্নাত সোনিয়া—‘না মিটিয়ে সাধ মোর’, আফসানা রুনা—‘আঁধার রাতে কে গো একেলা’, সুমন মজুমদার—‘যাও যাও তুমি ফিরে’, নাসিমা শাহীন ফ্যান্সি—‘নিশি ভোর হলো জাগিয়া’, শারমিন সাথী ইসলাম ময়না—‘ছাড়িতে পরান নাহি চায়’, সনজিদা বীথিকা—‘কেন প্রাণ ওঠে কাঁদিয়া’ এবং খায়রুল আনাম শাকিল—‘আমার কোন কূলে আজ’। সবশেষে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠান।
পুরো আয়োজনে যন্ত্রানুষঙ্গে সংগত করেন তবলায় ইফতেখার আলম ডলার ও স্বরূপ হোসেন, সরোদে ইউসুফ খান, মন্দিরায় প্রদীপ কুমার রায়, কিবোর্ডে রবিন্স চৌধুরী এবং বাঁশিতে মামুনুর রশীদ।







