আলোকচিত্র প্রদর্শনী
‘যতদিন না তারা ফিরছে’

আলোকচিত্র প্রদর্শনীর পর ‘নিখোঁজদের ফিরিয়ে আনতে: আইন, ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও মানবাধিকার’ শীর্ষক আলোচনা
ঘরের এক কোণে পড়ে থাকা খালি চেয়ারটি যেন অপেক্ষায় থাকা প্রিয় মানুষটির দীর্ঘ অনুপস্থিতির নীরব সাক্ষী। দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ আজও জাগিয়ে তোলে ফেরার আশা। দিন পেরিয়ে মাস, মাস পেরিয়ে বছর—তবু প্রশ্নগুলো থেকে যায় একই: সে কোথায়? তার কী হয়েছিল? কারা দায়ী? এমন প্রশ্ন নিয়েই রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে শুরু হয়েছে আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘যতদিন না তারা ফিরছে’।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকালে প্রদর্শনীর উদ্বোধনের পাশাপাশি ‘নিখোঁজদের ফিরিয়ে আনতে: আইন, ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও মানবাধিকার’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বছরের পর বছর প্রিয়জনের ফেরার অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর জীবনে তৈরি হওয়া শূন্যতা ও অনিশ্চয়তার গল্পই আলোকচিত্রী জীবন আহমেদ ও মোশফিকুর রহমান জোহানের ক্যামেরায় উঠে এসেছে।
‘মায়ের ডাক’ এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। প্রদর্শনী চলবে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে প্রদর্শনীটি দেখা যাবে।
আয়োজকেরা জানান, আগামীকাল রবিবার (৩০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে গৃহীত ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দ্য প্রোটেকশন অব অল পারসনস এগেইনস্ট এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স’-এর আলোকে ৩০ আগস্ট গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। গুম হয়ে যাওয়া মানুষদের স্মরণ এবং তাদের স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা, বেদনা ও অনিশ্চয়তার গল্প মানুষের সামনে তুলে ধরতেই আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে এ প্রদর্শনীর আয়োজন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘আমরা এমন আইন চাই, যাতে প্রত্যেকটা ভুক্তভোগী তার প্রতিকার পাবে, আদালতে যেতে পারবে এবং তার বিচার পাবে। এবং যারা দায়ী তারা সাজা পাবে।’
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, ‘গণতন্ত্রের একটি অপরিহার্য শর্ত হলো বিরোধী দল থাকা। কিন্তু আওয়ামী লীগ কখনো বিরোধী দল থাকুক— এটি চায়নি। এজন্য বিরোধী পক্ষকে দমন করতে গুমের আশ্রয় নিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার।’
বর্তমান সরকারের সময়ও মিরাজ শেখ নামে একজন নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন বলেন, “এপ্রিলের ১০ তারিখে মিরাজ শেখ—তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। এবং প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী এবং কিছু ডিজিটাল এভিডেন্স সবকিছু মিলিয়ে স্পষ্ট কিছু পথনির্দেশনা দেয় যে ঘটনাটা ঘটিয়েছে। দুর্ভাগ্যজনক যে এখন পর্যন্ত একটা নির্বাচিত সরকার, গণতান্ত্রিক সরকার এখন পর্যন্ত কিন্তু এটি স্পষ্ট করতে পারেননি অথবা পারলেও আমাদেরকে জানাচ্ছেন না।”
নূর খান লিটন বলেন, “আমরা প্রশ্ন তোলার কারণে সরকার বিব্রত হচ্ছেন, না ঘটনার কারণে সরকার বিব্রত হচ্ছেন—সেটা আপনারা ভেবে দেখুন।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, আলোকচিত্রী শহীদুল আলমসহ অনেকে।
মায়ের ডাকের অন্যতম সমন্বয়ক ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি জানান, গুমের শিকার আটটি পরিবারের সদস্যরা ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘মায়ের ডাক’ সংগঠনটি গড়ে তোলেন। বর্তমানে প্রায় এক হাজার পরিবার এ প্ল্যাটফর্মের সদস্য। এসব পরিবারের কারও না কারও স্বজন গুমের শিকার হয়েছেন। শেখ হাসিনার শাসনামল থেকেই গুমের প্রতিবাদে এবং নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানের দাবিতে তাঁরা সোচ্চার ছিলেন।








