৬ শতাধিক শিল্পীর নৃত্য-ছন্দে জমজমাট শিল্পকলা

ছবি: আগামীর সময়
শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে ৪০টির বেশি নৃত্যদলের ছয় শতাধিক শিল্পীর অংশগ্রহণে শুরু হলো দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস উদযাপন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে উদ্বোধন করা হয় এই আয়োজন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বললেন, ‘একটা রাষ্ট্র যদি তার নিজস্ব সংস্কৃতি ঠিকঠাক গড়ে তুলতে না পারে, সেই রাষ্ট্র আল্টিমেটলি খুব বেশি সাসটেইন করতে পারে না।’
বর্তমান সরকারের তৎপরতা তুলে ধরে তার ভাষ্য, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী খুবই সচেতন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে। ছেলেমেয়েরা যেন নাচ, গান শেখার পাশাপাশি কিছু মিউজিক্যাল ইন্সট্রুমেন্টও শেখে। সরকারপ্রধান যখন সংস্কৃতি নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব রাখেন, তখন আশা করি ভালো কিছু হবে।’
বাংলাদেশকে নিজস্ব সংস্কৃতি নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেন জাহেদুর রহমান। ‘আমরা বাংলাদেশি কালচার, সিরিয়াস রকম কালচারাল ডেভেলপমেন্ট করতে চাই এবং নাচকেও সেটার অংশ হতে হবে।’
আগামীকাল ২৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস। এ উপলক্ষে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগ আয়োজন করে দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা। প্রথম দিনের আয়োজনে বিকাল ৫টায় ঢাক-ঢোল বাদক এবং দেশের প্রবীণ ও নবীন নৃত্যশিল্পীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা হয়।
ছেলেমেয়েরা যেন নাচ, গান শেখার পাশাপাশি কিছু মিউজিক্যাল ইন্সট্রুমেন্টও শেখে। সরকারপ্রধান যখন সংস্কৃতি নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব রাখেন, তখন আশা করি ভালো কিছু হবে
পরে জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আলোচনা পর্বে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা বলছিলেন, ‘সন্তানদের ব্যাগের বোঝা কমিয়ে সংস্কৃতির দিকে পাঠান। অন্তত একটি পারফর্মিং আর্ট যেন তারা শেখে। সরকার যতই চেষ্টা করুক না কেন যদি সাধারণ মানুষের অন্তর্ভুক্তি না থাকে— তাহলে কিন্তু আমরা কোনো কিছুতেই এগিয়ে যেতে পারব না। আমাদের শিল্প-সংস্কৃতি সমৃদ্ধ করতে এগিয়ে আসুন সবাই।’
একুশে পদকপ্রাপ্ত নৃত্য গবেষক ও নৃত্য পরিচালক আমানুল হকের ভাষ্য, ‘বাংলাদেশে নৃত্য দিবস তেমন বড় পরিসরে পালন করা হয় না। শিল্পকলা একাডেমির এই উদযাপন ভালো লাগছে। আশা করি এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।’
শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ জানাচ্ছিলেন, ‘হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, তখন নৃ্ত্যের মধ্যেই ছিল তাদের প্রথম অভয়। নীতি অনুযায়ী গণমানুষের কাছে সংস্কৃতিকে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে শিল্পকলা একাডেমি। এই গণতান্ত্রিক সরকারের মূল লক্ষ্য ইনক্লুসিভ সংস্কৃতি তৈরি করা, যেখানে সব মানুষ একসঙ্গে ঐক্যতান তৈরি করব।’
অনুষ্ঠানে শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যশিল্পীরা সমবেত নৃত্য ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’ পরিবেশন করেন, যার পরিচালনায় ছিলেন ফিফা চাকমা। বেনজির সালামের পরিচালনায় ‘একি অপরূপ রূপে মা তোমায়’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যছন্দ নৃত্যদল এবং কবিরুল ইসলাম রতনের পরিচালনায় নৃত্য ‘মোরা ঝঞ্ঝার মতো’ পরিবেশন করে নৃত্যালোক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
‘মাস্ত কালান্দার, মন আমার দেহঘড়ি’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে স্বাত্তিক শিল্পাশ্রম, নৃত্য পরিচালনা করেন আরিফ হোসেন শামীম এবং ‘তোমায় আমি পাইতে পারি’ গানে নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যযতন, নৃত্য পরিচালনায় মো. নাজমুল হক। নৃত্য ‘মেলবন্ধন’ পরিবেশন করে কাথ্যাকিয়া- দ্য সেন্টার অব আর্টস, নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন জুয়েইরিয়াহ মৌলি ও এস এম হাসান ইশতিয়াক এবং ‘কত্থক তারানা’ নৃত্য পরিবেশন করে অঞ্জলি নৃত্যাঙ্গন একাডেমি, পরিচালনা করেছেন মন্দিরা চক্রবর্তী।
আগামীকাল বিকাল ৫টায় এই আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা। জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে সমাপনী দিনে নৃত্য পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করবে ২৩টি দল।





