সুফিয়া কামালের আদর্শে নতুন প্রজন্ম গড়ার প্রত্যয় কচি-কাঁচার মেলার

গান পরিবেশনা করছেন শিশুরা
“কচি-কাঁচার মেলা শুধু একটি সংগঠন নয়, শিশুদের সুন্দর মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার একটি দীর্ঘ সাংস্কৃতিক আন্দোলন এটি। সুফিয়া কামালের বাড়ির আঙিনায় যে ছোট্ট বীজটি রোপিত হয়েছিল, আজ একটি মহীরূহে পরিণত হয়েছে তা।”—কথাগুলো বলেছেন কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলার সভাপতি খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান।
নারীজাগরণের অগ্রদূত এবং কচি-কাঁচার মেলার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কবি সুফিয়া কামালের ১১৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার রাজধানীর কচি-কাঁচা মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা।
খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামানের ভাষ্য, “সুফিয়া কামাল বিশ্বাস করতেন, শিশুদের সুন্দর মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার কোনো বিকল্প নেই। তার স্বপ্ন ও আদর্শকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলাই কচি-কাঁচার মেলার দায়িত্ব।”
অনুষ্ঠানে আয়োজকেরা জানান, ১৯৫৬ সালের ৫ অক্টোবর কবি সুফিয়া কামালের বাড়ির আঙিনায় শিশু-কিশোরদের মানবিক বিকাশের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয় কচি-কাঁচার মেলা। সংগঠনটির সঙ্গে সুফিয়া কামালের সম্পর্ক ছিল গভীর ও আত্মিক।
প্রধান আলোচক একুশে পদকজয়ী নৃত্যপরিচালক আমানুল হক বলেছেন, “সুফিয়া কামাল শুধু একজন কবি নন, তিনি ছিলেন শিশুদের অকৃত্রিম বন্ধু এবং সাংস্কৃতিক জাগরণের এক অনন্য পথপ্রদর্শক।”
কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলার প্রাক্তন সভাপতি ড. রওশন আরা ফিরোজ জানান, "নারীজাগরণ, মানবিক মূল্যবোধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠায় সুফিয়া কামালের অবদান জাতীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।"
সভাপতির বক্তব্যে তিলোত্তমা বিশ্বাস বলেছেন, শিশুদের মধ্যে সংস্কৃতিচর্চা ও সহমর্মিতার যে বীজ সুফিয়া কামাল বপন করেছিলেন, আজও কচি-কাঁচার মেলার কার্যক্রমে জীবন্ত রয়েছে তা।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে সুফিয়া কামালের রচনা অবলম্বনে গান, কবিতা এবং শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে উপস্থাপন করা হয় বিভিন্ন পরিবেশনা।







