দৃষ্টির সীমা ছাড়িয়ে অনুভবের জগৎ ‘লিসেনিং বিয়ন্ড সাইট’

ছবি: আগামীর সময়
আলোকচিত্রী আরিফ আবদুল্লাহর একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘লিসেনিং বিয়ন্ড সাইট’ উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার আয়োজনে প্রতিষ্ঠানটির লা গ্যালারিতে প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয়।
শিল্প ও উপলব্ধির পারস্পরিক সম্পর্ককে কেন্দ্র করে সাজানো এ প্রদর্শনী দর্শকদের দৃষ্টিশক্তির প্রচলিত সীমা ছাড়িয়ে সৃজনশীলতার বহুমাত্রিক সম্ভাবনা এবং বিশ্বকে অনুভব করার ভিন্ন ভিন্ন উপায় অনুসন্ধানের আমন্ত্রণ জানায়।
স্কুলজীবনেই আলোকচিত্রের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় আরিফের। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পর চারুকলায় পড়াশোনার পাশাপাশি আলোকচিত্রে প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেন তিনি। ২০০৯ সালে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য চট্টগ্রামে তার প্রথম একক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। তবে চারুকলায় তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময় তার জীবনে বড় পরিবর্তন আসে। তিনি আক্রান্ত হন কোরয়ডেরেমিয়া নামের একটি বিরল জিনগত রোগে। এর ফলে ধীরে ধীরে কমতে থাকে তার দৃষ্টিশক্তি।
দৃষ্টিশক্তির এই পরিবর্তন থামিয়ে দিতে পারেনি তার শিল্পীসত্তাকে। বরং প্রকাশের নতুন মাধ্যম খুঁজে নিতে হয়েছে তাকে। গানের প্রতি দীর্ঘদিনের আগ্রহ থেকে ব্লুজ সংগীতের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে আরিফের। হারমোনিকা হয়ে ওঠে তার সংগীতচর্চার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ। ব্লুজ সংগীতশিল্পীদের অনুপ্রেরণায় অনলাইন পাঠের মাধ্যমে নিজেই এই বাদ্যযন্ত্র বাজানো শেখেন তিনি। একসময় বাংলাদেশে পেশাদার হারমোনিকা বাদক হিসেবে পরিচিতি পান। পরে বিভিন্ন সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী বায়ুবাদ্যযন্ত্র নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি নিজে বাদ্যযন্ত্র তৈরি এবং প্রচলিত যন্ত্রের পরিবর্তন সাধনেও মনোযোগী হন।
আলোকচিত্রের পাশাপাশি সংগীত, গান লেখা ও সাউন্ড ডিজাইন— বিভিন্ন মাধ্যমে বিস্তৃত হয়েছে তার শিল্পচর্চা। এসব মাধ্যমের মধ্য দিয়ে শিল্পের নতুন সম্ভাবনা, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং চারপাশের পৃথিবীর সঙ্গে মানুষের সংযোগের নানা দিক অনুসন্ধান করেছেন তিনি।
‘লিসেনিং বিয়ন্ড সাইট’ প্রদর্শনীতে উঠে এসেছে আরিফের এই বহুমাত্রিক শিল্পযাত্রা। দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন কীভাবে একজন শিল্পীর জীবন ও কাজকে নতুনভাবে গড়ে দিতে পারে, তা তুলে ধরার পাশাপাশি শিল্পকে দেখা ও অনুভব করার প্রচলিত ধারণা নিয়েও দর্শকদের ভাবতে উৎসাহিত করবে এ আয়োজন।
নিজের আলোকচিত্রচর্চা প্রসঙ্গে আরিফ আবদুল্লাহ বলেন, ‘রংকে কিছুক্ষণের জন্য সরিয়ে রাখলে দৃশ্যের অন্যান্য উপাদান—রেখা, আকৃতি, ছায়া ও বুনট—আরও স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। এতে রঙের বাইরে গিয়ে কোনো দৃশ্যের নিজস্ব দৃশ্যভাষা আরও ভালোভাবে বোঝা সম্ভব হয়।’
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবুল খায়ের গ্রুপ অব কোম্পানিজের স্ট্র্যাটেজি কনসালট্যান্ট মো. আবুল বাশার। প্রদর্শনীটি ২০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।



