হেলমেট-জ্যাকেট ছাড়াই কাঠগড়ায়, নিশ্চুপ শিরীন শারমিন

ছবিঃ আগামীর সময়
নিশ্চুপ। বিষন্ন। মাথায় হেলমেট বা গায়ে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ছাড়াই ২০ মিনিট কাঠগড়ায় সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আত্মগোপনে ছিলেন দেড় বছরের বেশি সময়। ভোররাতে আটকের পর আজ মঙ্গলবার বেলা ১টা ৫৫ মিনিটে পুলিশ প্রহরায় আদালতে হাজির করা হয় তাকে। এর মধ্য দিয়ে এই প্রথম স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা গেল ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের কাউকে। সাবেক অন্তবর্তী সরকারের সময় আদালতে হাজির করার ক্ষেত্রে আসামিদের অনেককে সুরক্ষার জন্য পরানো হয়েছে হেলমেট। আদালত প্রাঙ্গণে ঘটেছে ডিম ছুড়ে মারার ঘটনাও।
রাজধানীর লালবাগ থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক স্পিকারের রিমান্ড ও জামিন উভয়ই নামঞ্জুর করেছেন আদালত। তাকে পাঠানো হয়েছে কারাগারে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এদিন শুনানির আগে শিরীন শারমিনকে রাখা হয় সিএমএম আদালতের হাজতখানায়। এরপর তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের লালবাগ জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহসীন উদ্দীন। অপর আবেদনে চাওয়া হয় দুই দিনের রিমান্ড।
ওই আবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন শেখ হাসিনা ও আসামি শিরিন শারমিনসহ অন্য আসামিরা। তাদের পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ নির্দেশে এই মামলার ঘটনা ঘটে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি কৌশলে প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান বলেও অভিযোগ।
আসামিকে নিবিড় ও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে মামলার পলাতক আসামিদের অবস্থান জানাসহ গ্রেপ্তার ও ঘটনার রহস্য উদঘাটনে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
বিকেল সোয়া ৩টার দিকে কাঠগড়ায় উঠেন শিরীন শারমিন। তার উপস্থিতিতেই শুরু হয় রিমান্ড শুনানি। এ সময় কাঠগড়ার সামনের লোহার রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন সাবেক স্পিকার। রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী। আসামিপক্ষের আইনজীবী ইবনুল কাওসার এবং এবিএম হামিদুল মেজবাহ রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন। ৩টা ২৭ মিনিটে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত। আদেশ দেন কারাগারে পাঠানোর।
এ সময় ‘শিরীন শারমিন কথা বলতে চান’, আদালতকে জানিয়েছিলেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। তবে আদালত তাকে কথা বলার অনুমতি দেননি।সোমবার ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে ধানমন্ডির ৮/এ রোডের একটি বাসা থেকে আটক হন বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার। আটকের পর তাকে নেওয়া হয় মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে। হত্যাচেষ্টা মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই আজিমপুর সরকারি কলোনির ভেতরে মিছিল করছিলেন ভুক্তভোগী মো. আশরাফুল ওরফে ফাহিম। এ সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার আদেশে ও বিপ্লব বড়ুয়া, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামালের পরিকল্পনা ও নির্দেশে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা বৈষম্যবিরোধী শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ওপর দেশি ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে হত্যাযজ্ঞ চালায়। ফাহিমের বাম চোখ ভেদ করে রেটিনার পেছনে একটি গুলি লাগে, যা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বের করতে পারেননি। এছাড়া মাথায় দুটি, কপালে দুটি, মুখের ডান চিবুকে একটি ও ডান হাতের কনুইতে প্রায় ১২০-১৪০টি গুলি লাগে তার। ভুক্তভোগী ফাহিম ঘটনাস্থলেই ঢলে পড়েন। আন্দোলনকারী কয়েকজন তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায় এবং সেখানেই প্রাথমিক চিকিৎসা হয় তার।পরে জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে ফাহিমের অপারেশন হয় এবং তাকে রেফার করা হয় জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে। সেখানে বাম চোখের অপারেশন করেন ফাহিম। আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পাঠানো হয় সিএমএইচে। সেখানকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা অপারেশন করে গুলি বের করে। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই লালবাগ থানায় বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন ভুক্তভোগী ফাহিম।















