নারী ডোম নিয়োগে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, রুল জারি হাইকোর্টের

হাইকোর্ট। ফাইল ফটো
নারীর মরদেহের ময়নাতদন্ত হয় এমন সব হাসপাতালে নারী ডোম নিয়োগে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
দুই সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের।
আজ রবিবার জনস্বার্থে করা এক রিটের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।
গত সোমবার জনস্বার্থে রিটটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মনির উদ্দিন। এর আগে দেশের যেসব হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করা হয়, সেখানে অন্তত একজন করে নারী ডোম নিয়োগের আবেদন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জমা দিয়েছিলেন তিনি। সাড়া না পাওয়ায় পরে রিট করেন হাইকোর্টে।
রিট আবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের সব ধর্মেই নারীর মরদেহের মর্যাদা ও গোপনীয়তা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত একটি আইনি প্রক্রিয়া হলেও নারী মরদেহের ক্ষেত্রে নারী ডোম থাকলে ধর্মীয় অনুভূতি, ব্যক্তিগত মর্যাদা ও গোপনীয়তা আরও ভালোভাবে রক্ষা করা সম্ভব।
আবেদনে আরও বলা হয়, সড়ক দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো কারণে কোনো নারী মারা গেলে তার পরিবার এমনিতেই গভীর শোক ও মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে থাকে। সে সময় যদি জানতে হয় যে একজন পুরুষ ডোম ময়নাতদন্ত করবেন, তাহলে পরিবারের জন্য তা আরও কষ্টের হয়ে ওঠে। নারী ডোম থাকলে স্বজনরা কিছুটা মানসিক স্বস্তি পেতে পারেন। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ার এই সময়ে ময়নাতদন্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও নারী ডোম নিয়োগ সময়োপযোগী পদক্ষেপ হবে।
রিটে মানবাধিকার সনদের প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মৃত্যুর পরও একজন মানুষের মর্যাদা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখানো জরুরি। অতীতে দেশের বিভিন্ন মর্গে পুরুষ ডোমের বিরুদ্ধে নারী মরদেহের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচারের অভিযোগ ওঠার ঘটনাও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর মধ্যে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা এক তরুণীর মরদেহের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচারের অভিযোগে ডোম আবু সাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে ২০২০ সালের ২০ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে এক নারীর মরদেহের সঙ্গে যৌনাচারের অভিযোগে মুন্না ভগত নামে আরেক ডোমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তিনি অভিযোগ স্বীকার করেন বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব বিষয় বিবেচনায় দেশের সব হাসপাতালে, যেখানে ময়নাতদন্ত করা হয়, সেখানে অন্তত একজন নারী ডোম নিয়োগ এবং মরদেহের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।




