খায়রুল হকের জামিন বহাল
- তবে অনুমতি ছাড়া যেতে পারবেন না বিদেশে

গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক। ফাইল ছবি
সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে জামিন দিয়েছিল হাইকোর্ট; তা আটকাতে রাষ্ট্র পক্ষ গিয়েছিল সর্বোচ্চ আদালতে। কিন্তু আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি তাতে সাড়া দেননি। ফলে তার মুক্তিতে বাধা নেই বলে দাবি করেছেন তার আইনজীবী।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ঢাকার বনানী থানায় করা একটি মামলায় খায়রুল হকের জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করেছিল আপিল বিভাগে। চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক সোমবার ‘নো অর্ডার’ দিয়ে আবেদনটি নিষ্পত্তি করে দেন। ফলে তাকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল থাকল।
এরপর খায়রুল হকের আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু সাংবাদিকদের বললেন, এই আদেশের ফলে সাবেক এই প্রধান বিচারপতির কারামুক্তিতে আইনগত বাধা নেই।
এই আইনজীবী তথ্য দেন, খায়রুল হকের বিরুদ্ধে সব মিলে ৯টি মামলা রয়েছে। তার আটটিতে তিনি আগেই জামিন পেয়েছেন।
জামিনে মুক্তি পেলেও বিচারপতি খায়রুল হক বিদেশ যেতে পারবেন না। সেজন্য আদালতের অনুমতি প্রয়োজন হবে। গত ৯ আগস্ট আপিল বিভাগের এক আদেশে বলা হয়, খায়রুল হক আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশ ত্যাগ করতে পারবেন না।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ সরকারের করা একটি আবেদন নিষ্পত্তির সময় এ পর্যবেক্ষণ দেন। আদেশটি সোমবার প্রকাশিত হয়েছে।
খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে ছিলেন।
তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন। এর মধ্যদিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পর দেশে রাজনৈতিক সংকট দেখা দেয়। ওই রায় ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার পথ প্রশস্ত করেছিল বলে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করে আসছিলেন।
জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের এক বছর পর ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই খায়রুল হককে রাজধানীর ধানমন্ডিতে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরে তাকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন। এরপর বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় তাকে।
আটটি মামলায় জামিনের পর বনানী থানার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় গত ৮ জুলাই। অধস্তন আদালতে বিফল হয়ে হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন সাবেক এই প্রধান বিচারপতি। এরপর গত ১০ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান তিনি।






