রামিসা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স নথি পাঠানো হলো উচ্চ আদালতে

ফাইল ছবি
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়সহ ডেথ রেফারেন্সের নথি উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেহীন ৬৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় এবং ৩ পৃষ্ঠা ডেথ রেফারেন্সসহ মোট ৭২ পৃষ্ঠার নথি উচ্চ আদালতে পাঠান। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ আগামীর এ তথ্য জানান।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হলে আসামি সোহেল রানা কৌশলে পঞ্চম তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি রুমে নিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে আসামিদের রুমের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি করেন তার মা। সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার মা ফ্ল্যাটের অন্যদের নিয়ে এসে ভেতরে প্রবেশ করেন। সোহেল ও স্বপ্নার শোয়ার রুমে রামিসার মাথাবিহীন দেহ এবং বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পান তারা। স্বপ্না সেখানে দাঁড়ানো ছিলেন। এ ঘটনার দিন শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুইজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা করেন।
মামলার প্রথমে স্বপ্না খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২০ মে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একইদিন আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। মাত্র পাঁচ দিনে তদন্ত শেষে গত ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। এতে আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে অভিযুক্ত করা হয়। ওইদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক অভিযোগপত্রটি গ্রহণটি করেন এবং বিচার প্রস্তুত হওয়ায় মামলাটি বদলির আদেশ দেন। একইদিন ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্র আমলে নেন।
ঈদের ছুটি শেষে গত ১ জুন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। পরদিন ২ জুন বিচারক মোট ১৮ জনের মধ্যে রামিসার মা, বাবা ও বোনসহ ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনে সোহেল রানা নিজেকে দোষী সাব্যস্ত করে ক্ষমা চান। তবে স্বপ্না নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। ৪ জুন যুক্তিতর্ক শুনানিতে তাদের সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে প্রার্থনা করে রাষ্ট্রপক্ষ। পরে ৭ জুন রায়ে সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ ও স্বপ্নার দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অর্থদণ্ডের অর্থ রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারকে প্রদানের নির্দেশ দেন।




