গ্রেপ্তার সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজ রিমান্ডে

সাবেক সেনা কর্মকর্তা আব্দুল হাফিজ। ছবি: আগামীর সময়
সাবেক সেনা কর্মকর্তা আব্দুল হাফিজকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে ঢাকার পল্লবী থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায়। এই মামলায় আরও দুই সেনা কর্মকর্তা কাজী গুলশান আরা ও দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া গ্রেপ্তার হয়ে এখন কারাগারে রয়েছেন।
দুই বছর আগে জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনে জড়িতদের বিরুদ্ধে গত ১২ অক্টোবর ঢাকা মহানগর পুলিশের পল্লবী জোনাল টিমের পরিদর্শক মো. আলী আকবর বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
গতকাল শনিবার রাতে আব্দুল হাফিজকে ঢাকার বনানী থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর পল্লবী থানার মামলাটিতে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ দুপুরে তাকে পাঠানো হয় ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ আসামিকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী জামাল ভুইয়া রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন।
শুনানি শেষে মহানগর হাকিম রাকিবুল হাসান আসামি হাফিজের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
সাবেক মেজর আব্দুল হাফিজ ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তিনি দলটির শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য ছিলেন। টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগেরও সদস্যও ছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগ আমলে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীও হতে চেয়েছিলেন তিনি।
গত ১১ অক্টোবর কাজী গুলশান আরা ও দেবাশীষ কুমার বড়ুয়াকে গ্রেপ্তারের পর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করে পুলিশ।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, আসামিরা নিজ বাসায় অবস্থান করে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টারস আলফা’ এবং ‘বিবিএম ট্রান্সপারেন্সি’ নামে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত থেকে তহবিল সংগ্রহ ও সহিংস উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে বিভিন্ন সামাজিক প্লাটফর্মে প্রচার করছেন।
আসামিরা সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ আওয়ামী লীগের পলাতক শীর্ষনেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়।
অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরা ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে দেড় শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে গণভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছিলেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, পরে আসামির সহযোগীরা সেনা পরিষদ নামে একটি কমিটি প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংগঠনের কাজ মূলত দেশের বিভিন্ন শ্রেণি গোষ্ঠীর ভেতরে বিদ্বেষ ছড়িয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করা এবং তারা সক্রিয়ভাবে নিজেরা অংশগ্রহণ করে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশের সার্বভৌমত্ব নস্যাৎ করা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং বিভিন্ন উৎসবে অংশগ্রহণ করে বর্তমান সরকারের প্রতি ঘৃণা ও অবজ্ঞা প্রকাশ করে বিদ্বেষ সৃষ্টি করেছে।



