নূরজাহান বেগমের মৃত্যু
অবহেলার অভিযোগে ৪ সন্তানকে লিগ্যাল নোটিস

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বৃদ্ধা মা নূরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় চরম অবহেলা, দায়িত্বহীনতা এবং ভরণ-পোষণ ও আইনগত কর্তব্য পালনে ব্যর্থতার বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়ে চার সন্তানের কাছে লিগ্যাল নোটিস পাঠানো হয়েছে। আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি এ নোটিস পাঠান।
নোটিস পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় জনস্বার্থে ও প্রবীণ নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং উচ্চ আদালতের নজরে আনার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিস পাওয়া চার সন্তান হলেন- খুলনা সমুদ্রবন্দরের যুগ্মসচিব ড. এ কে এম আনিসুর রহমান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. এ কে এম আশিকুর রহমান, কানাডাপ্রবাসী কে এম আতিকুর রহমান এবং স্কুলশিক্ষিকা ফাতিমা নাসরিন সুলতানা।
এতে বলা হয়েছে, বৃদ্ধা নূরজাহান বেগমের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়; এটি জাতির বিবেক, মানবিক মূল্যবোধ ও পারিবারিক দায়িত্ববোধ নিয়ে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি দেশ-বিদেশের মানুষের হৃদয় স্পর্শ করেছে।
আরও উল্লেখ করা হয়, জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে জানা যায়, প্রায় ৭৫ বছর বয়সী নূরজাহান বেগম রাজধানীর মিরপুরের একটি ফ্ল্যাটে দীর্ঘ সময় নিঃসঙ্গ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তার মরদেহ প্রায় সাত দিন পর উদ্ধার করা হয়।
প্রকাশিত তথ্যে আরও প্রতীয়মান হয়, তার একাধিক প্রতিষ্ঠিত সন্তান জীবিত থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রয়োজনীয় তত্ত্বাবধান, খোঁজখবর ও মানবিক সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এ বিষয়ে গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।
নোটিসে বলা হয়, ঘটনাটি কেবল একটি পরিবারের ব্যক্তিগত মর্মান্তিক বিষয় নয়; বরং এটি প্রবীণ নাগরিকদের অধিকার, পারিবারিক দায়িত্ববোধ, সামাজিক নৈতিকতা এবং আইনের শাসনের প্রশ্নে জাতীয় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫, ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে মানবিক মর্যাদা, আইনের সমান আশ্রয় এবং জীবন ও নিরাপত্তার যে সাংবিধানিক নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, তার আলোকে প্রত্যেক নাগরিকের, বিশেষ করে অসহায় প্রবীণ ব্যক্তির নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও পরিবারের যৌথ দায়িত্ব বলে নোটিসে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ অনুযায়ী সন্তানদের ওপর পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ, দেখভাল, পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আইনগত বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। আইনটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান করে যে, পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব পালন শুধু নৈতিক কর্তব্য নয়, এটি একটি আইনগত দায়িত্বও।
নোটিসে আরও বলা হয়, যে মা সন্তানের জীবন গঠন করেন, সেই মা যদি জীবনের অন্তিম সময়ে নিঃসঙ্গতা, অবহেলা ও অযত্নের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেন এবং মৃত্যুর পরও দীর্ঘ সময় তার মরদেহ একটি আবদ্ধ কক্ষে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকে, তবে তা সভ্য সমাজের জন্য গভীর লজ্জা, বেদনা ও বিবেকের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।




