শাপলা চত্বরে গণহত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো লতিফ সিদ্দিকীকে

আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে সংঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাকে কারাগারে পাঠানোর।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
এর আগে দুপুর ১টার পর আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, শাপলা চত্বরের ঘটনায় করা মামলায় লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে পূর্ব থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। সেই পরোয়ানা কার্যকর করতে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
এর আগে, গত ২৭ জুলাই প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং ১০ জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৬ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়।
বর্তমানে এ মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন আটজন। তারা হলেন- সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা এবং মোজাম্মেল বাবু।
এ ছাড়া অন্য একটি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন হাসানুল হক ইনু। একই মামলায় আবদুর রাজ্জাকও গ্রেপ্তার রয়েছেন। মামলার বাকি আসামিরা পলাতক।
মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগে দুটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে আবু বকর সিদ্দিকসহ ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছাদেক মিয়াসহ ২০ জনকে হত্যা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত নিহতের ঘটনাগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি রাশেদুল ইসলাম, আবু ইউসুফসহ বহু মানুষকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালানো ও নির্যাতনের মাধ্যমে গুরুতর আহত করার অভিযোগও আনা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের দাবি, এসব কর্মকাণ্ড গণহত্যা, হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সংঘটিত নিপীড়ন হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে।





