কাঠগড়ায় ফুরফুরে মেজাজে আনিসুল, পকেটে ওষুধ নিলেন পলক

পুলিশ প্রহরায় আনিসুল হক, পলক ও নাসির উদ্দীন সাথীকে আদালতের হাজতখানা থেকে বের করা হয়। ছবি : আগামীর সময়
যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যাচেষ্টা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। একইদিন মাই টিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দীন সাথীকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আজ রবিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক শুনানি শেষে তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। শুনানি চলাকালে কাঠগড়ায় ফুরফুরে মেজাজে দেখা গেছে আনিসুল হককে। আর কাঠগড়ায় থাকা পলক পলিথিন মোড়ানো প্যাকেটে নিয়ে গেছেন ওষুধ।
এদিন সকাল ১১টা ৩৬ মিনিটে পুলিশ প্রহরায় আনিসুল হক, পলক ও সাথীকে আদালতের হাজতখানা থেকে বের করা হয়। তখন সবার সামনে আনিসুল হক, মাঝে সাথী এবং পেছনে ছিলেন পলক।
লিফটে করে তাদের ১১টা ৪৩ মিনিটে কাঠগড়ায় নেওয়া হয়। এসময় তাদের হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট খুলে নিলে আনিসুল ও পলক সামনে এসে দাঁড়ান। আর পেছনে দাঁড়িয়ে থাকেন সাথী। ১১টা ৪৬ মিনিটে আনিসুল হকের ওকালত নামায় স্বাক্ষর নিতে যান তার আইনজীবী। এসময় তিনি হাসিমুখে নানা বিষয়ে কথা বলতে থাকেন। পাশে থাকা পলকও তার আইনজীবীর সঙ্গে আলাপ করেন।
এরপর এই মামলায় শুনানি শুরু হয়। প্রথমে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও যাত্রাবাড়ী থানার এসআই আওলাদ হুসাইন তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর যুক্তি তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন শুনানিতে উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার পঞ্চম পান্ডব আনিসুল হক ও পলকের চক্রান্ত ও নীলনকশায় জুলাই আন্দোলনের হত্যাকাণ্ড হয়েছে। এই মামলার তদন্তে তাদের নাম এসেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন। তদন্তে উঠে আসবে এই ঘটনার সঙ্গে তাদের কি ভূমিকা ছিল।
পলকের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি জানান, এই মামলায় পলকের নাম নেই। সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ নেই। রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনা করে ব্যক্তিগত অপরাধের দায় কখনোই নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। আমরা তার গ্রেপ্তার না দেখানোর প্রার্থনা করছি।
অন্যদিকে আনিসুল হকের আইনজীবীও তাকে গ্রেপ্তার না দেখানোর প্রার্থনা করেন।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর যাত্রাবাড়ী থানার হত্যা মামলায় মো. নাসির উদ্দীন সাথীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
শুনানি চলাকালে ১১টা ৫২ মিনিটে পলকের হাতে পলিথিনে মোড়ানো প্যাকেট ওষুধ দেওয়া হয়। এসময় তিনি নিজের বাম পকেটে ওষুধসহ পলিথিন ঢুকিয়ে নেন। আর শুনানির পুরাটা সময় জুড়েই ফুরফুরে মেজাজে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন আনিসুল হক। পুলিশ প্রহরায় তাদেরকে আদালত থেকে বের হয়। হাটিয়ে তাদেরকে হাজতখানায় নেওয়া হয়।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট রাতে ঢাকার সদরঘাট এলাকা থেকে নৌপথে পালিয়ে যাওয়ার সময় গ্রেপ্তার হন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। পরদিন ১৫ আগস্ট পলককে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২৫ সালের ১৭ অগাস্ট রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে নাসির উদ্দিন সাথীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তারা কারাগারে আটক রয়েছেন।
কারাগারে থাকা অবস্থায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই আওলাদ হুসাইন হত্যাচেষ্টা মামলায় আনিসুল ও পলককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
এছাড়া গত ১২ অক্টোবর যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক সৌমিত্র সরকার আসামি সাথীকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। এ বিষয়ে তাদের শুনানির জন্য ১৮ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।



