৫ কারণে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তাকে ৭ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ

সোমবার সন্ধ্যায় আদালতে আনা হয় দুই আসামিকে
রাজধানীর পল্লবী থানার রাষ্ট্রদ্রোহ ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরা এবং কর্নেল (অব.) দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।
সোমবার পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ পাঁচ কারণ উল্লেখ করে রিমান্ড আবেদন করেছেন। এ বিষয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালতে শুনানি হবে।
পাঁচ কারণে বলা হয়েছে, সহযোগী আসামিদের নাম-ঠিকানা ও অবস্থান জানার জন্য; রাষ্ট্রদ্রোহমূলক কাজে নিয়োজিত দেশী-বিদেশী পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত; ঘটনার সাথে জড়িত মেকন ডিজিটাল আলামতের সন্ধান; আসামিদের পরিচালনাকৃত রাষ্ট্রবিরোধী অন্য কোনো ওয়েবসাইট/পেইজ আছে কিনা তা জানার জন্য; মামলার মূল রহস্য উদঘাটন এবং দেশবিরোধী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন রোধ করার জন্য রিমান্ড প্রয়োজন।
রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়েছে, আসামিরা নিজ বাসায় অবস্থান করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টারস আলফা এবং বিবিএম ট্রান্সপারেন্সি নামে সরকারবিরোধী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত থেকে তহবিল সংগ্রহ ও সহিংস উস্কানিমূলক ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি করে বিভিন্ন সামাজিক প্লাটফর্মে প্রচার করছেন।
এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ইউনিটি কেয়ার ও পাবলিক পার্লামেন্ট প্লাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পলাতক শীর্ষ নেতাদের সাথে যোগাযোগ রেখে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন ও রাষ্ট্রবিরোধী সংগঠিত অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আসামিরা। ‘কালা আজকা’, ‘কম’ নামক পেজ তৈরি করে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা উস্কে দেওয়ার মতো কন্টেন্ট তৈরি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা এবং ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম প্রচার ও পরিচালনা করছেন তারা।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, কাজী গুলশান আরা ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর নির্বাচনের প্রাক্কালে দেড় শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে গণভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি প্রকাশ্যে একাত্মতা ও আনুগত্য প্রকাশ করেন। পরে সহযোগী ১০১ জন আসামিকে নিয়ে ‘সেনা পরিষদ’ নামে একটি কমিটি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। এই সংগঠনের কাজ দেশের বিভিন্ন শ্রেণী গোষ্ঠীর ভিতরে বিদ্বেষ ছড়িয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করা এবং বিভিন্ন উৎসবে অংশগ্রহণ করে সরকারের প্রতি ঘৃণা ও অবজ্ঞা প্রকাশ করে বিদ্বেষ সৃষ্টি করা।




