বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আজও মিরপুরে সড়ক অবরোধ পোশাক শ্রমিকদের

বিক্ষোভের ফলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েন কর্মজীবী মানুষসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা। ছবি : আগামীর সময়
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে টানা ৪র্থ দিনের মতো রাজধানীর মিরপুরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন বেশ কয়েকটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।
আজ রবিবার সকাল ৯টা থেকে শ্রমিকদের বিক্ষোভ শুরু হলে মিরপুর ১০, ১১, ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে ওই এলাকায় চলাচলকারী যাত্রীদের।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সকাল ৯টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে সড়ক অবরোধের মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে মিরপুর ১১, ১২ ও প্রশিকা মোড় এলাকায় বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নেন।
পল্লবী থানার ওসি জালাল উদ্দিন জানান, আজকেও সকাল থেকে মিরপুর ১০, ১১, ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় শ্রমিকরা নেমেছে। তারা সড়ক অবরোধ করে তাদের দাবি জানাচ্ছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সংস্থাটির সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়েছে, শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধিসহ অন্যান্য দাবির প্রেক্ষিতে চলমান শ্রম অসন্তোষ নিরসনে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুরের চন্দ্রা ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা, সফিপুর, কোনাবাড়ী ও মৌচাক, নাওজোড় এবং ভোগড়া বাইপাস এলাকায় বিজিবি মোতায়েন।
এর আগে গতকাল শনিবার সকাল থেকে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে মিরপুরে বিক্ষোভ করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। বিক্ষোভ একপর্যায়ে মিরপুর ও পল্লবীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে একাধিক স্থানে ভাঙচুর, সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তার কারণে বন্ধ রাখা হয় একাধিক পোশাক কারখানা।
পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গত ২৯ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু হয় এই আন্দোলন।
পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছ, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে মিরপুর-১০ ও মিরপুর-১১ নম্বরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবস্থান নেন পোশাকশ্রমিকেরা। এতে প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ চলতে থাকে।
দুপুর আড়াইটার দিকে আন্দোলনরত শ্রমিকেরা মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে সরে যান। তবে সেখান থেকে সরে গেলেও বিক্ষোভ থামেনি। শ্রমিকদের একটি অংশ মিরপুর-১ নম্বরের মাজারসংলগ্ন বাজার, মার্কেট ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, দুপুর ২টা ৫ মিনিটের দিকে শাহ আলী থানাধীন মিরপুর-১ নম্বরে হিমালয় গার্মেন্টসের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় মিরপুর-১০ থেকে আসা ১২০ থেকে ১৫০ জন শ্রমিক কারখানাটিতে হামলা চালান। ভাঙচুর করা হয় পাশের বাগদাদ শপিং কমপ্লেক্সেও।
এরপর বিকেল ৩টা ১৫ মিনিট থেকে ৩টা ২৫ মিনিটের মধ্যে শাহ আলী থানাধীন মল্লিক টাওয়ারে ভাঙচুর চালান আন্দোলনকারীরা। পুলিশের তথ্য বলছে, মিরপুর-১০ নম্বরে তৌফিক নামের এক শ্রমিক আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে মল্লিক টাওয়ারে ভাঙচুর চালিয়ে তারা মিরপুর-২ নম্বরের দিকে চলে যান।
একই সময়ে পল্লবী থানাধীন কালশী আদর্শ নগরের ২২ তলা গার্মেন্টস পল্লীতেও হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, বিকেল ৩টা ২০ মিনিট থেকে ৩টা ২৫ মিনিটের মধ্যে বহিরাগত ১০০ থেকে ১৫০ জন শ্রমিক সেখানে হামলা চালান।
দিনভর বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরের ঘটনায় মিরপুর ও পল্লবী এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শ্রমিক অসন্তোষ ও নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে ওই এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ রাখা হয়।



