স্ত্রীকে হত্যার পর গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা বলে প্রচার করেন স্বামী

মুক্তা ইসলাম মাওয়া ও সোহেল সিকদার
রাজধানীর খিলক্ষেত থানাধীন এলাকায় স্বামী সোহেল সিকদারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতেন মুক্তা ইসলাম মাওয়া। সাত বছরের সংসারে দুই সন্তান সোহেল-মাওয়া দম্পত্তির। গত ৩ সেপ্টেম্বর গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় মাওয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেছে তার পরিবার। মামলার রহস্য উদঘাটনে থানা পুলিশ ব্যর্থ হলেও স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশের ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এর পরেই তদন্তে বেরিয়ে এসেছে ভিন্ন চিত্র।
পুলিশ জানিয়েছে, আত্মহত্যা নয়, স্বামী সোহেল সিকদার হত্যার পর মাওয়ার গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। সম্প্রতি অপরাধ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন সোহেল।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর সকালে সোহেল শিকদার তার স্ত্রী মুক্তা ইসলাম মাওয়াকে মারধর করেন। মারধরের একপর্যায়ে মৃ্ত্যু হয় মাওয়ার। হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে ভিকটিম ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রচার করেন সোহেল।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক ফিরোজ আহমেদ মুন্সী আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘আসামি সোহেলকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তিনি স্বেচ্ছায় আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এখনই মামলার বিষয়ে কিছু বলা যাবে না। আইনের ভেতর থেকেই তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট পেলে অনেক কিছু স্পষ্ট হবে। এই মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত।’
এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় সোহেলকে। পরে গত ৮ সেপ্টেম্বর তার পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন খিলক্ষেত থানার উপপরিদর্শক রাজীব ভৌমিক। রিমান্ড শেষে গত ১৭ সেপ্টেম্বর আদালতে সোপর্দ করা হয় তাকে।
পুলিশ জানিয়েছে, রিমান্ডে থাকাকালে মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন সোহেল। পরবর্তী সময়ে তদন্তের জন্য পুলিশের ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) পাঠানো হয় মামলাটি।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে ফের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক ফিরোজ আহমেদ মুন্সী। শুনানি শেষে তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হন সোহেল। গত ১৪ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, সাত বছর আগে মো. সোহেল সিকদারের সঙ্গে মাওয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর রাজধানীর খিলক্ষেত থানাধীন নিকুঞ্জ এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন তারা। বিয়ের কিছুদিন পর সোহেলের বাসায় তার ভগ্নিপতি আশিক হোসেন বসবাস শুরু করেন। এ নিয়ে সোহেলের সঙ্গে মাওয়ার মনোমালিন্য চলছিল।
এর জের ধরে প্রায়ই মাওয়াকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন সোহেল। গত ৩০ আগস্ট সোহেল তাকে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। গত ৩ সেপ্টেম্বর সোহেলের ভাড়া করা বাসায় গলায় ওড়না দিয়ে পেঁচানো অবস্থায় মাওয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই তানভীর রহমান বাদী আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। এতে সোহেল সিকদার, তার ভাগনে আলিফ হোসেন, বোন জামাই মো. বসির ও বোন কাজল বেগমকে আসামি করা হয়।



