সাত মাসে সহিংসতার শিকার ১৬৬৭ নারী ও শিশু : মহিলা পরিষদ
- ধর্ষণের শিকার ২৯২ জন
- হত্যা করা হয়েছে ৩৪১ জনকে

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ জানিয়েছে, গত সাত মাসে বিভিন্ন ধরণের সহিংসতার শিকার হয়েছেন ১ হাজার ৬৬৭ নারী ও শিশু। এসময়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২৯২ নারী ও কন্যাশিশু। এ ছাড়া হত্যার শিকার হয়েছেন ৮৩ কন্যাশিশু ও ২৫৮ নারী। এর মধ্যে ৩১টি ঘটনা ধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
রবিবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে সারাদেশে অব্যাহত নারীর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ, হত্যা ও শিশু হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচিতে এ তথ্য তুলে ধরেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সংগঠনটি দেশের সকল জেলায় এ দিন নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার প্রতিবাদের মানববন্ধন করেছে।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। অন্যন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগম; আন্দোলন সম্পাদক রাবেয়া খাতুন শান্তি; ঢাকা মহানগর কমিটির লিগ্যাল এইড সম্পাদক শামীমা আফরোজ আইরীন।
ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, গত সাত মাসে ৮৩ জন কন্যাশিশু ও ২৫৮ জন নারী হত্যার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৩১টি ঘটনা ধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্যান্য হত্যাকাণ্ডের পেছনে রয়েছে জমিজমা নিয়ে বিরোধ, মামলা-মোকদ্দমা, পারিবারিক বিরোধসহ বিভিন্ন কারণ। কিন্তু এটি শুধু হত্যার সংখ্যা নয়; হত্যার ধরণ ও নৃশংসতাও আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে।
তিনি বলেছেন, আমরা যে তথ্য পাচ্ছি, তা মূলত সীমিতসংখ্যক সংবাদপত্রের প্রতিবেদন থেকে সংগৃহীত। মাত্র ১৪টি পত্রিকার তথ্যের ভিত্তিতে এই চিত্র পাওয়া গেছে। অথচ দেশে আরও অসংখ্য সংবাদমাধ্যম রয়েছে। সব সংবাদমাধ্যমের তথ্য যদি আমাদের হাতে আসত, তাহলে নারীর প্রতি সহিংসতার প্রকৃত চিত্র আরও ভয়াবহ হতে পারে। ফলে প্রশ্ন উঠছে বাংলাদেশে নারীর নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকার কতটা নিশ্চিত?
তিনি এসময় দৃঢ়ভাবে বলেন, নারীদের ভয় দেখিয়ে ঘরে ফেরানো যাবে না। নারীরা তাদের অধিকার আদায়ে সংগঠিত থাকবে। নারী হত্যা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার থাকব এবং এমন একটি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য কাজ করব, যেখানে নারীকে হত্যা, ধর্ষণ বা নির্যাতনের শিকার হতে হবে না।
মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেছেন, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ৬৬৭ নারী ও শিশু বিভিন্ন ধরণের সহিংসতার শিকার হয়েছেন। ২৯২ নারী ও কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনায় স্পষ্ট হয় বাংলাদেশের নারী ও শিশুরা আজ কোনো জায়গাতেই পুরোপুরি নিরাপদ নয়। শুধু ধর্ষণ বা যৌন সহিংসতাই নয়, হত্যা, নির্যাতন ও নানা ধরনের সহিংসতার শিকার হচ্ছে নারী ও শিশুরা। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই সহিংসতার প্রবণতা আমরা কমাতে পারছি না। যে শিশুটি এখনও শারীরিক ও মানসিকভাবে পূর্ণ বিকাশ লাভ করেনি, যে শিশু এখনও নিজেকে একজন নারী হিসেবে চিহ্নিত করার বয়সে পৌঁছায়নি, সেই শিশুও যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো অপরাধীরা বিভিন্ন বয়সের মানুষ। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই যেখানে নারী ও শিশুরা স্বাধীনভাবে, নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে চলাফেরা করতে পারবে। যেখানে পরিবার হবে নিরাপদ, সমাজ হবে সহনশীল এবং রাষ্ট্র হবে তাদের অধিকার ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দাতা। নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের পাশাপাশি পরিবার, সমাজ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচারব্যবস্থা, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ এবং প্রতিটি নাগরিককে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব নিতে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।







