দক্ষিণে ৮, উত্তরে ১২ ঘণ্টার আগেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণের প্রস্তুতি

সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর অলি-গলিতে কোরবানি পশুর বর্জ্য অপসারণে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ উভয় সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। এবার ১৬ হাজারের বেশি পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও সাড়ে সাত শতাধিক যানবাহন মাঠে নামানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুর থেকেই নগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বর্জ্য সংগ্রহ করতে দেখা গেছে।
ঢাকা দক্ষিণে প্রথম দিনের বর্জ্য রাত সাড়ে ৯টার মধ্যেই অপসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ তাদের লক্ষ্য ৮ ঘণ্টার মধ্যেই তারা বর্জ্য অপসারণ করবে। অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) জানিয়েছে, ঈদের দিন ১২ ঘণ্টারও আগেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন করতে প্রস্তুত তারা।
এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি ও লালবাগ এলাকার বিভিন্ন অলিগলি ঘুরে দেখা যায়, সিটি করপোরেশনের ক্লিনাররা পিকআপভ্যান ও ঠেলাগাড়ি নিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে কোরবানির পশুর বর্জ্য সংগ্রহ করছেন। বর্জ্যগুলো সংগ্রহের পর তা দ্রুততার সঙ্গে ছোট ছোট ভ্যান থেকে বড় বড় ডাম্পিং ট্রাকে স্থানান্তর করে নির্দিষ্ট সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে (এসটিএস) নেওয়া হচ্ছে।
সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদুল আজহার পবিত্রতা রক্ষায় এবং পরিবেশ দূষণ রোধে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শতভাগ বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর। মাঠপর্যায়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পাশাপাশি বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম তদারকির জন্য করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও মাঠে রয়েছেন।
ঢাকা উত্তর সিটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ বলছে, বর্জ্য অপসারণে প্রায় ১৬ হাজার ৮৯০ জন কর্মী কাজ করবেন। এর মধ্যে ডিএনসিসির নিজস্ব পরিচ্ছন্নতাকর্মী ৬ হাজার ১৬৫ জন, ভ্যান সার্ভিস কর্মী ৪ হাজার ৫০০ জন এবং স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন ৫ হাজার ৪০০ জন। এ ছাড়া প্রতিটি পিকআপ ভ্যানে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োজিত থাকবেন ৩ জন করে ২৭৫টি পিকআপে মোট ৮২৫ জন।
বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম তদারকিতে ১০টি অঞ্চলের জন্য পৃথক ১০টি তদারকি দল গঠন করা হয়েছে। চালু রাখা হবে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ। প্রতিটি এলাকায় অস্থায়ী বর্জ্য সংগ্রহ কেন্দ্র নির্ধারণের পাশাপাশি বৃষ্টি বা দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।
এদিকে, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে নাগরিকদের পলিথিন ব্যাগ ব্যবহারসহ সিটি করপোরেশনকে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ। নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার পাশাপাশি পরিবেশসম্মত উপায়ে কোরবানির কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।






