প্যাকেটজাত খাদ্যে দ্রুত ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং নীতিমালার দাবি

ছবি: আগামীর সময়
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ভোক্তার তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করা এবং অসংক্রামক রোগ (এনসিডি) প্রতিরোধে বাংলাদেশে দ্রুত ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং (এফওপিএল) নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, আইনজ্ঞ ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশে প্যাকেটজাত খাদ্যের সামনের অংশে লেবেলিং (এফওপিএল) বিষয়ক গণমাধ্যম প্রচারাভিযান’ শীর্ষক মিডিয়া অ্যাডভোকেসি কর্মশালায় এ আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ উল্লেখ করেন, বর্তমানে খাদ্যপণ্যের পুষ্টি-সংক্রান্ত তথ্য সাধারণ ভোক্তার জন্য সহজে বোঝা যায় না। ফলে অনেকেই অজান্তে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করছেন। প্যাকেটের সামনের অংশে সহজ ও স্পষ্ট সতর্কবার্তা থাকলে ভোক্তারা সচেতনভাবে খাদ্য নির্বাচন করতে পারবেন, যা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস এফওপিএল অ্যাডভোকেসি ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য, বৈশ্বিক অগ্রগতি এবং বাংলাদেশের সম্ভাব্য কার্যক্রম তুলে ধরেন। তার ভাষ্য, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এফওপিএল সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। জনস্বার্থে বাংলাদেশেও এখন এ নীতি প্রণয়নের উপযুক্ত সময়।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার মো. মাহফুজুর রহমান মিলন মন্তব্য করেন, খাদ্যপণ্যের সঠিক ও সহজবোধ্য তথ্য জানা ভোক্তার মৌলিক অধিকার। কার্যকর ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং সেই অধিকার বাস্তবায়নের পাশাপাশি বিদ্যমান ভোক্তা অধিকার আইনকে আরও কার্যকর এবং নিরাপদ খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অ্যাসিস্ট্যান্ট সায়েন্টিস্ট ড. আহমাদ খায়রুল আবরার তুলে ধরেন, আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং ভোক্তাদের স্বাস্থ্যকর খাদ্য বেছে নিতে উৎসাহিত করে। একই সঙ্গে এটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পণ্যের উপাদান আরও স্বাস্থ্যসম্মত করতে উদ্বুদ্ধ করে, ফলে দীর্ঘমেয়াদে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমে।
বাংলাভিশনের সিনিয়র নিউজ এডিটর আবু রুশদ মো. রুহুল আমিন উল্লেখ করেন, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে গণমাধ্যমের দায়িত্ব শুধু তথ্য প্রচার নয়। তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, জনআলোচনা এবং ধারাবাহিক প্রচারের মাধ্যমে এফওপিএল বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নীতিনির্ধারণে জবাবদিহিমূলক ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।
উন্মুক্ত আলোচনায় ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের প্রকল্প সমন্বয়কারী মাহবুবা রহমান জানান, বাংলাদেশে প্রস্তাবিত ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং বিধিমালার খসড়া বর্তমানে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনাধীন। এ পর্যায়ে প্রমাণভিত্তিক গণমাধ্যম প্রচার এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ ইতিবাচক জনমত সৃষ্টি ও নীতিমালা প্রণয়নের গতি বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
কর্মশালায় প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, আইনজ্ঞ, যুব প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। শেষে অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশে কার্যকর এফওপিএল বাস্তবায়ন এবং নীতিমালা প্রণয়নে সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে সমন্বিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।




