গবেষণাকে কেবল পদোন্নতির মাধ্যম ভাবা যাবে না : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। ছবি : আগামীর সময়
গবেষণাকে শুধু ডিগ্রি অর্জন বা পদোন্নতির মাধ্যম হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর ফলাফল কাজে লাগাতে হবে দেশের স্বাস্থ্য খাতের নীতি ও কর্মসূচি পরিবর্তনে। গবেষণার সার্থকতা তখনই, যখন তা সাধারণ মানুষের জীবন বদলায় এবং জাতীয় নীতিমালায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। এমন মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
আজ সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজে ২২ সপ্তাহব্যাপী গবেষণা পদ্ধতিবিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন। অনুষ্ঠানে তিনি মূল প্রবন্ধও উপস্থাপন করেন।
সোসাইটি অব মেডিসিন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন ও সাব-স্পেশালিটি বিভাগের সহযোগিতায় এ প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করা হয়।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, চিকিৎসকদের প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে হয়। এতে তাদের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে। তবে প্রতিকূল পরিবেশেও চিকিৎসকদের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সঠিক গবেষণা পরিকল্পনা করা সম্ভব। আর সেই গবেষণা স্বাস্থ্য খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে।
নিজের দীর্ঘ গবেষকজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ড. এম এ মুহিত জানিয়েছেন, অন্ধত্ব দূরীকরণ এবং সেরিব্রাল পলসিতে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে কমিউনিটিভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে নীতিগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে হাজারো শিশুর জীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
গবেষকদের উদ্দেশে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বড় নমুনা বা অসংখ্য ভেরিয়েবল থাকলেই ভালো গবেষণা হয় না। গবেষণার মূল প্রশ্ন চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি সেই প্রশ্নের সমাধানের সুনির্দিষ্ট পথও খুঁজে বের করতে হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, গবেষণালব্ধ প্রমাণ নিয়ে নীতিনির্ধারক ও সরকারের সঙ্গে কাজ করলে স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো এবং সেবার মান উন্নত করা সম্ভব।
চিকিৎসকদের গবেষণায় আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ড. এম এ মুহিত বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পুনর্গঠন এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
এ লক্ষ্য অর্জনে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ভাইরাল হেপাটাইটিস ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মানসম্মত গবেষণা প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মাজহারুল শাহীন। আরও বক্তব্য দেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও সোসাইটি অব মেডিসিনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মনির-উজ-জামান এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন।



