পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি

মজুরি বোর্ড গঠনের ওপরও থামছে না পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ। ছবি : শামীম-উস-সালেহীন
নূন্যতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো বিক্ষোভ করেছেন পোশাকশ্রমিকরা। আজ মঙ্গলবার দুপুরে চলমান বিক্ষোভে শ্রমিকরা জানিয়েছেন, সরকার দাবি না মানলে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তারা।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে রেনে অ্যান্ড শেলি লিমিটেডের এক শ্রমিক জানিয়েছেন, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এই আন্দোলনে সব শ্রমিক রাস্তায় নামবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে পোশাক শিল্পের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের পরও যারা আন্দোলন করছেন, তাদের বিশেষ উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার তৌহিদুল আরিফ।
আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছিলাম। প্রথমে রাস্তার ফুটপাতেই ছিলাম। কিন্তু পুলিশ এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়। পরে আমরা রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন করি
দুপুরে মিরপুর ১১ মেট্রোস্টেশনের সামনে তিনি বলেছেন, ‘কিছু দুষ্কৃতিকারী সবকিছু নষ্ট করার চেষ্টা করেছে। তারা মিরপুর ১১ নম্বর সড়কে ব্যারিকেড দিয়েছিল। আমরা কঠোর হাতে দমন করেছি। প্রয়োজনে আরও কঠোর হব।’
তৌহিদুল আরিফ আরও বললেন, ‘এখন যারা মাঠে রয়েছেন, তাদের কেউই প্রকৃত অর্থে গার্মেন্টস কর্মী বা শ্রমিক নন। তারা বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে মাঠে রয়েছেন।’
দুপুরে মিরপুর ১১ নম্বরের টার্টেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পোশাকশ্রমিক শফিকুল বলছিলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছিলাম। প্রথমে রাস্তার ফুটপাতেই ছিলাম। কিন্তু পুলিশ এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়। পরে আমরা রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন করি। আমাদের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই সময়ে ১৫-২০ হাজার টাকা বেতনে কী হয়। সংসার কেমনে চলে। আমাদের দাবি যুক্তিসঙ্গত। নূন্যতম বেতন ৩০ হাজার টাকা যদি না করা হয় তাহলে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব। এই আন্দোলন আরও বড় হবে।’
এদিকে মঙ্গলবার শ্রমিকদের আন্দোলনে সাইমন নামে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, তাকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটাচ্ছেন কয়েকজন। বর্তমানে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই পুলিশ সদস্য।
পল্লবী থানার ওসি জালাল উদ্দিন আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘মিরপুর ১১ থেকে যখন শ্রমিকদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে, তখন তারা কালশীর দিকে সরে যায়। সেই সময় পল্লবী থানা থেকে পুলিশ সদস্যরা মিরপুর ১১-এর দিকে আসছিল। দলছুট অবস্থায় পেয়ে একজনের ওপর হামলা চালানো হয়।’
এদিকে মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর ‘নাশকতা ঠেকাতে’ অবস্থান নেয় যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাদেরকে স্টাম্প ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিল করতে দেখা যায়।
এদিন দুপুর ১২টার পর মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মিছিল করেন যুবদলের নেতাকর্মীরা। পরে দুপুর দেড়টার দিকে মিরপুর ১১ নম্বর এলাকায় স্টাম্প হাতে নেতাকর্মীদের মিছিল করতে দেখা যায়। এ সময় মিছিল থেকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।





