ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঢাকায় ‘ক্লিন স্কুল টিম’ গঠনের নির্দেশ ডিসির

ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম
ডেঙ্গু প্রতিরোধে পূর্ব সতর্কতা হিসেবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার লক্ষ্যে ঢাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ক্লিন স্কুল টিম’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার জেলা প্রশাসন। আজ বুধবার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনার আলোকে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার জন্য পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এতে উল্লেখ রয়েছে, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ‘ক্লিন স্কুল টিম’ গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবার ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, বিদ্যালয় ভবন ও শ্রেণিকক্ষ নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ছাদ, ড্রেন, খোলা জায়গা ও জমে থাকা পানির স্থান নিয়মিত পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ছাড়া শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচারণা চালানো, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে উৎসাহ দিতে পুরস্কারের ব্যবস্থা করাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
আদেশ অনুযায়ী, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গঠিত ‘ক্লিন স্কুল টিম’-এর সভাপতি থাকবেন প্রতিষ্ঠান প্রধান। এছাড়া একজন অভিভাবক প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের স্যানিটারি পরিদর্শক বা উপজেলা পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি, দুইজন শিক্ষার্থী এবং একজন শিক্ষক সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নির্দেশনা পাওয়ার পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ক্লিন স্কুল টিম’ গঠন করে কার্যক্রম শুরু করতে হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে সচেতনতা এবং পরিচ্ছন্নতা। এ কারণেই আমরা প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘ক্লিন স্কুল টিম’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছি। শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্য সম্পর্কে দায়িত্বশীল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিদ্যালয় পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি নিজেদের বাড়ি ও আশপাশেও যেন তারা একই অভ্যাস অনুসরণ করে, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।
‘প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষ, ছাদ, বারান্দা, ড্রেন, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র এবং যেসব স্থানে পানি জমে মশার লার্ভা জন্ম নিতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিদর্শন ও পরিষ্কার রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই যেন এডিস মশার প্রজননের সুযোগ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে’, যোগ করেন তিনি।






