নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার মোড়কে জনস্বার্থবিরোধী ব্যবস্থাই টিকে থাকে : নূরুল কবীর

ছবি: আগামীর সময়
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার মোড়কে আসলে জনস্বার্থবিরোধী ব্যবস্থাই টিকে থাকে। এর বদলে তরুণদের ‘লিপ্ততার সাংবাদিকতা’ বা মানুষের অধিকারের পক্ষে লড়াকু সাংবাদিকতায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নিউ এইজ সম্পাদক নূরুল কবীর।
অঅজ রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ দিবস উপলক্ষে ‘রাজনীতি, ক্ষমতা ও আন্তঃসংশ্লেষ : তত্ত্ব, বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের মোজাফফর আহমদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
নূরুর কবীর বলেছেন, যখন সাংবাদিকতা করি, কার জন্য করি? কী ধরনের সাংবাদিকতা করি? এই যে একটা কথা প্রচলিত আছে ‘নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা’, এই বস্তুটা কী? এই প্রশ্নটা আমাদের নিজেদের, অধ্যাপকদের, শিক্ষার্থীদের মাথায় নিরন্তরভাবে কার্যকর থাকা দরকার।
নিউ এইজ সম্পাদক বলেছেন, একটা সমাজে যদি বিভিন্ন শ্রেণি থাকে, সমাজে যদি শ্রেণি বিভক্তি থাকে, সেই সমাজের মধ্যে যদি অন্যায় থাকে, জনস্বার্থবিরোধী অর্থনীতি চালু থাকে, জনস্বার্থবিরোধী আইন-কানুন যদি থাকে, তাহলে এইরকম একটা সময়ের মধ্যে সাংবাদিকতা বা যেকোনো বুদ্ধিবৃত্তিক তৎপরতা কীভাবে নিরপেক্ষ হতে পারে?
‘আর এই নিরপেক্ষতার অর্থ তো আসলে একটা জনস্বার্থবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করা। এই নিরপেক্ষতার অর্থই হচ্ছে—একটা বিদ্যমান ব্যবস্থার বিরুদ্ধে না দাঁড়িয়ে, প্রতিবাদ না করে সেটাকে নিরপেক্ষতার ছদ্মাবরণে পারপেচুয়েট (জিইয়ে রাখা) করতে দেওয়া, বয়ে দিতে চাওয়া।’
নিউ এইজ সম্পাদক বলছেন, সাংবাদিকতার একটা কাজ তো অবশ্যই পরিষ্কারভাবে তথ্য প্রদান করা। কিন্তু কেবলমাত্র তথ্য প্রদান করা নয়। তথ্য মানেই আমি ধরে নিচ্ছি যে তথ্য আর অপতথ্য বলে কিছু নেই। যা কিছু তথ্য, তার বাইরে সবকিছুই অপ।
‘তথ্যের যে বস্তুনিষ্ঠতা, সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাংবাদিকতার সেটা তো একটা প্রথম পর্ব। আপনার রিডারকে, ভিউয়ারকে, দর্শককে আপনি নিশ্চয়ই তথ্য দেবেন এরকমভাবে— যাতে ইনফর্মড ওপিনিয়ন (সুচিন্তিত মতামত) গড়ে উঠতে পারে গোটা রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে ওপিনিয়ন গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
সাংবাদিকতায় যারা সত্যের উদঘাটন এবং বস্তুনিষ্ঠতার মাধ্যমে জনকল্যাণমুখী এক্টিভিজম করছেন তারা অনেক বড় কাজ করছেন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেছেন, সাংবাদিকতার জন্য সত্য উদঘাটন এবং বস্তুনিষ্ঠতা এটা বড় একটা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, আর এটাতে জনকল্যাণের দিকে ধাবিত করা যে দায়িত্ব যেটা একধরনের এক্টিভিজম অবশ্যই এটা একটা বড় কাজ। সাংবাদিকতার জগতে, সাংবাদিকতার বাতায়নে যারা এই এক্টিভিজম করছেন তারা অবশ্যই অনেক বড় কাজ করছেন। যারা এটি করছেন তারা নিশ্চিত তথ্য সংগ্রহ, তথ্যের ব্যবস্থাপনা, তথ্যের উপস্থাপনা সবটাই একটি কল্যাণমুখি কাজে করছেন।
সংবাদমাধ্যমকে রাষ্ট্রের অনিবার্য চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেছেন, যেখানে সাংবাদিকতা নেই সেখানে একটি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন দেখা দেয়। সমাজবিজ্ঞানী ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, রাষ্ট্রবিহীন সাংবাদিকতা এবং সাংবাদিকতাবিহীন রাষ্ট্রের মধ্যে বেছে নিতে হলে সভ্য মানুষ রাষ্ট্রবিহীন সাংবাদিকতাকেই বেছে নেবে, কারণ এটি সভ্যতার এক অনিবার্য অনুসঙ্গে পরিণত হয়েছে।
সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারপার্সন (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানসহ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।




