সমুদ্র অর্থনীতি জাতীয় অগ্রাধিকার করার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশের সুনীল বা সমুদ্র-অর্থনীতিকে জাতীয় অগ্রাধিকার দেওয়ার জোর তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও বিশেষজ্ঞরা। বিপুল সম্ভাবনাময় এই খাত কাজে লাগাতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি গবেষণা সংস্থা ও গবেষকদের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক বলে মত দিয়েছেন তারা।
গতকাল সোমবার ঢাকার উত্তরায় সিমেক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির দোয়েল সেমিনার হলে ‘ব্লু ইকোনমি থিংক ট্যাংক’ আয়োজিত এক নীতিনির্ধারণী ও পরামর্শসভায় বক্তারা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও টেকসই উন্নয়নে সমুদ্র-অর্থনীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম শামীম রেজার সভাপতিত্বে ‘বাংলাদেশের সুনীল অর্থনীতি ব্যবস্থাপনায় জাতীয় অংশীজনদের পরামর্শসভা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন, সমুদ্র বিপুল সম্পদের আধার। এই সম্পদ আহরণ ও সুব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ সরকারের সক্রিয় উদ্যোগ, জাতীয় রূপরেখা এবং আইনি কাঠামো প্রণয়ন করা জরুরি।
একই সঙ্গে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় বিভাগ ও জাতীয় অংশীজনদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও তারা বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। সমুদ্র অর্থনীতির ওপর বিশেষায়িত জ্ঞান ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা এবং গবেষকদের এই খাতের ব্যবস্থাপনায় যুক্ত করার পরামর্শ দেন তারা।
দেশের টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এবং সমুদ্র-অর্থনীতিকে জাতীয় আয়ের অন্যতম উৎস হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ওপর জোর দেন আলোচকরা।
তাদের ভাষ্য, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সমুদ্র-অর্থনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। অস্ট্রেলিয়া সরকারের সহযোগিতায় ‘অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস-ড্রাইভিং চেঞ্জ: অ্যালামনাই গ্রান্টস ফর ইনোভেশন’-এর অংশ হিসেবে এই সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) মহাপরিচালক জীবন কৃষ্ণ সাহা রায়, প্রাইম ব্যাংকের টেকসই অর্থায়ন বিভাগের উপ-প্রধান ফারিবা নাজ শাওলী, নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সেতু, সিমেক গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক ফোয়ারা ইয়াসমিন, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. রতন কুমার রায়, পোর্ট সিটি ইউনিভার্সিটির প্রভাষক মো. নুরুল আমিন ও মাছরাঙা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি নুর-উন-নাহার উইলিসহ ‘অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস-২০২৪’-এর অ্যালামনাই সদস্য এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকরা আলোচনায় অংশ নেন।




