নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন
জেন্ডারভিত্তিক বাজেটে জোর, সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
- গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞদের মতামত— ক্ষমতায়নের জন্য প্রয়োজন স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও সমান সুযোগ

সংগৃহীত ছবি
আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ‘নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ: নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ণ অভিমুখী বাজেট’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক। আয়োজন করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সভাপতি ছিলেন সংগঠনটির সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। প্রারম্ভিক বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম জাহান এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. সাদিয়া শারমিন।
ক্ষমতায়ন মানে নিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীনতা : ড. সেলিম জাহান
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলছিলেন ড. সেলিম জাহান, ‘কেউ কাউকে ক্ষমতায়িত করতে পারে না— তবে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে পারে।’ নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে তিনটি দিক উল্লেখ করেছেন তিনি— সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা, সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়নের সঙ্গে সমন্বয়। আরও বলেছিলেন তিনি, কর্মসংস্থান, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত ছাড়া প্রকৃত ক্ষমতায়ন সম্ভব নয়।
চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে সমাধানে জোর : ড. সাদিয়া শারমিন
পরিকল্পনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. সাদিয়া শারমিনের ভাষ্য, নারীর ক্ষমতায়নে আগে চিহ্নিত করতে হবে চ্যালেঞ্জগুলো। শ্রমবাজারে সমান সুযোগ, অবকাঠামো উন্নয়নে নারীর প্রয়োজন বিবেচনা, এবং তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। ‘নারীর অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে গবেষণা ও কমিউনিটি মনিটরিং অত্যন্ত জরুরি।’
জেন্ডার বাজেট ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ওপর জোর
আলোচনায় জানাচ্ছিলেন বিশেষজ্ঞরা, জেন্ডার বাজেট কেবল বরাদ্দ নয়— এর কার্যকারিতা মূল্যায়ন জরুরি। অর্থ নারীর হাতে পৌঁছাচ্ছে কিনা, তা ফলাফলভিত্তিক বিশ্লেষণ করতে হবে। আরও কিছু বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন তারা— উচ্চশিক্ষা ও উচ্চ আয়ের কাজে নারীর অংশগ্রহণ, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনা, জেন্ডার ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট এবং বাজেট ট্র্যাকিং ও জনসম্মুখে প্রকাশ।
বিশেষজ্ঞদের মত, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আয় স্থিতিশীলতা, ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা এবং সংকট মোকাবেলার সক্ষমতা জরুরি।
নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় অর্থনৈতিক স্বাধীনতা জরুরি
সভাপতির বক্তব্যে বলছিলেন ডা. ফওজিয়া মোসলেম, নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অপরিহার্য। অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ প্রায় ৬০ শতাংশ হলেও তা বাড়াতে হবে। নারীর সম্পত্তির অধিকার, উত্তরাধিকার আইন এবং সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছিলেন তিনি।
বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান
‘এসব বাধা থাকা সত্ত্বেও নারীরা শ্রমবাজারে অংশগ্রহণে আগ্রহী।’ প্রারম্ভিক বক্তব্যে এ মন্তব্য করেছেন মালেকা বানু। ‘নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের পথে প্রধান বাধাগুলোর মধ্যে রয়েছে— উৎপাদনমুখী শিক্ষার অভাব, দক্ষতার ঘাটতি, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, কম মজুরি ও সামাজিক মর্যাদার অভাব, সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকা, বাল্যবিয়ে ও গৃহস্থালি অদৃশ্য শ্রম।‘
বৈঠকে একমত হয়েছেন বক্তারা, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে কেবল বাজেট বরাদ্দ নয়, বরং কার্যকর বাস্তবায়ন, সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন এবং সমন্বিত নীতিনির্ধারণ অপরিহার্য।
এতে আরও অংশ নিয়েছেন অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ, শক্তি ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রায় ১৩০ জন প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছেন রাবেয়া খাতুন শান্তি।



