অবশেষে আবৃত্তি বিভাগ হলো, ফেডারেশনের কৃতজ্ঞতা

বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের দীর্ঘ তিন মাসের প্রচেষ্টায় অবশেষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে যুক্ত হলো আবৃত্তি বিভাগ। জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধিত) অধ্যাদেশ-২০২৬ অনুমোদিত হয় এবং তাতে ‘আবৃত্তি, নৃত্য ও অন্যান্য পারফর্মিং আর্টস বিভাগ’ নামে পুনর্বিন্যাস করে একটি বিভাগ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
এক বিবৃতিতে আবৃত্তিশিল্পকে 'বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধিত) অধ্যাদেশ’-এ অন্তর্ভুক্ত করার দাবি বিবেচনা ও অনুমোদন করার জন্য আইন মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটি ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সব আবৃত্তিশিল্পী ও সংগঠনকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আইন, ১৯৮৯ (১৯৮৯ সনের ২২নং আইন) জারি করার পর থেকে ওই আইন অনুযায়ী ছয়টি বিভাগের মধ্যে কোনো বিভাগেই আবৃত্তিশিল্প অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এ বছরের জানুয়ারি মাসে অন্তর্বর্তী সরকার আইনটি সংশোধন করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধিত) অধ্যাদেশ জারির উদ্যোগ নিলেও তাতে ‘আবৃত্তি বিভাগ’ অন্তর্ভুক্ত না করায় বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টার কাছে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে অধ্যাদেশ’-এ স্বতন্ত্র ‘আবৃত্তি বিভাগ’ অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া 'বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে স্বতন্ত্র আবৃত্তি বিভাগের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক সেমিনার আয়োজন করি, যেখানে বিভিন্ন যুক্তি ও তথ্যে আবৃত্তির বহুমুখী প্রভাব ও গুরুত্ব উত্থাপিত হয়।
কিন্তু উপদেষ্টা ‘আবৃত্তি বিভাগ’ অন্তর্ভুক্ত করার দাবি না মেনে অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত করে জারি করা হলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকেও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশন আপত্তি জানিয়ে অধ্যাদেশটি পুনর্বিবেচনা ও সংশোধনের দাবি উপস্থাপন করা হয়।
এরই মধ্যে নির্বাচন-পরবর্তী বর্তমান সরকারের উদ্যোগে অন্তর্বর্তী সরকারের জারিকৃত অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হলে আইন মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটির কাছে 'বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধিত) অধ্যাদেশ-২০২৬’-এ আবৃত্তির স্বতন্ত্র বিভাগ অন্তর্ভুক্ত করার দাবি আবার উপস্থাপন এবং এ বিষয়ে যুক্তি ও তথ্য উপস্থাপনের পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশন ও আবৃত্তিশিল্পীদের দাবি পূরণ হয়েছে।















