‘মেট্রোতে উঠে মনে হচ্ছিল ভেঙে যাবে হাড়গোড়’
- সকাল-বিকেল অফিস আওয়ারে দম আটকানো ভিড়
- বিশ্ব জুড়ে মেট্রোর হেডটাইম সর্বনিম্ন ২ মিনিট
- দেশে জাপানিজ স্ট্যান্ডার্ডে পিক আওয়ারে ৬ মিনিট
- যাত্রীর চাপ বাড়লে হেডওয়ে কমিয়ে আনার পরিকল্পনা

গ্রাফিক্স: আগামীর সময়
গাড়ি গ্যারেজে, কর্তা মেট্রোর লাইনে। অফিস যেতেন মোটরসাইকেলে কিন্তু ওই দুই চাকাও আছে থেমে। কারণ, ওই জ্বালানি সংকট। জটের শহরে জাদুর মেট্রো এখন ভরসা সবার। কিন্তু কেউ কী জানে জট নিরসনের সেই মেট্রোর বগিতেই এখন জট। এত চাপাচাপি যে, মাথা ধরে তো পা ধরে না...।
বিশেষ করে সকাল ও বিকেলের অফিস আওয়ারে বগিতে পা ফেলার জায়গা থাকে না। মার্কেট বন্ধের সময়েও দেখা যাচ্ছে একই অবস্থা। এ অবস্থায় আলোচনা হচ্ছে পিক আওয়ারে মেট্রোর হেডওয়ে (এক ট্রেন থেকে পরবর্তী ট্রেনের ব্যবধান) কমানোর বিষয়টি।
মেট্রোতে এত ভিড় আগে দেখিনি কখনো। চিড়েচ্যাপ্টা হয়ে গিয়েছিলাম চাপে। মনে হচ্ছিল ভেঙে যাবে শরীরের হাড়গোড়
জ্বালানি সাশ্রয়ে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময়সূচি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে মার্কেট খোলা রাখার সময় নির্ধারণ হয়েছে রাত ৭টা। সরকারের নতুন এই নির্দেশনার পর দেখা যাচ্ছে, সন্ধ্যার দিকেই সবচেয়ে বেশি চাপ থাকছে মেট্রোতে।
বেসরকারি চাকরিজীবী ফরহাদ আহমেদ (২৫) থাকেন মিরপুর। তার অফিস পল্টনে। আগে অফিস যাতায়াতের জন্য নিজের মোটরসাইকেল ব্যবহার করলেও মাসখানেক ধরে চলাচল করছেন মেট্রোতে। তবে খুব ভালো নয় তার অভিজ্ঞতা, ‘মেট্রোতে উঠলেই মনে হয় ঢুকেছি মুরগির খাঁচায়। তেল সংকটের আগে ছিল না এতো ভিড়। এখন সময় ও খরচ কমলেও ভিড়ের কারণে প্রতিদিন পড়তে হয় অস্বস্তিতে।’
১২টি ট্রেন দিয়েই প্রায় ২০টি ট্রেনের সমপরিমাণ যাত্রী বহন করা হচ্ছে
যাত্রীচাপে অনেক সময় যাত্রীরা দরজার মধ্যে আটকে যান, ফলে দরজা লক হয়ে ট্রেন ছাড়তে দেরি হয়। আরেক যাত্রী সৌমিক সুভামের (২৬) ভাষায়, ‘ভিড় এড়াতে সকাল ৮টায় বের হই, তবু প্রায়ই পাই না সিট। উৎসবের দিন তো মেট্রোতে ওঠাই হয়ে যায় কষ্টকর।’
ফেসবুকে এক পোস্টে গণমাধ্যমকর্মী আনিসুর বুলবুল (৪৩) তুলে ধরেছেন মেট্রোতে হওয়া তার অভিজ্ঞতা। লিখেছেন, ‘মেট্রোতে এত ভিড় আগে দেখিনি কখনো। চিড়েচ্যাপ্টা হয়ে গিয়েছিলাম চাপে। মনে হচ্ছিল ভেঙে যাবে শরীরের হাড়গোড়। ভিড় দেখলেই দম বন্ধ হয়ে যায় আমার।’
বিশ্বের আধুনিক মেট্রো ব্যবস্থায় হেডওয়ে সর্বনিম্ন ২ মিনিট রাখার নিয়ম থাকলেও ঢাকা মেট্রো অনুসরণ করে জাপানি স্ট্যান্ডার্ড। বর্তমানে পিক আওয়ারে হেডওয়ে ৬ মিনিট এবং অন্য সময়ে ৮ থেকে ১৫ মিনিট।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ পরিষদের পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম ব্যাখ্যা দিলেন এভাবে, ‘ফেব্রুয়ারিতে একদিনে যাত্রী চলাচল করেছিল সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৩০ হাজার। গত এক সপ্তাহে গড়ে ৩ লাখ ৮০ হাজার হয়েছে যাত্রী। ভিড় বেড়েছে শুধু পিক আওয়ারে (সকাল ৯-১০টা ও বিকেল ৪-৬টা)। অন্য সময় ফাঁকাই থাকে ট্রেন। বর্তমানে ২৪টি ট্রেনের মধ্যে চলছে ১২টি ট্রেন। এই ১২টি ট্রেন দিয়েই প্রায় ২০টি ট্রেনের সমপরিমাণ যাত্রী বহন করা হচ্ছে। যাত্রীর চাপ বাড়লে হেডওয়ে ৬ মিনিট থেকে আরও কমিয়ে আনা হবে।’

