হু হু করে কমার পর ফের কিছুটা বাড়ল তেলের দাম

প্রতীকী ছবি
হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ খোলা— যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এমন ঘোষণার পর তেলের দাম কমে যায় হু হু করে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আবার কিছুটা বেড়েছে দাম। অয়েল প্রাইস ডট কমের তথ্য বলছে, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমে দাঁড়ায় চলতি মাসের সর্বনিম্ন ৮৬ দশমিক ৩৯ ডলারে। কাছাকাছি সময় ৮১ ডলারে নেমে যায় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম।
তবে সময়ের ব্যবধানে দাম কিছুটা বেড়ে শনিবার ভোর ৪টার দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দাঁড়িয়েছে ৯০ ডলারে। একই সময়ে ডাব্লিউটিআই ক্রুডের দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৫ ডলারে।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরঘচি ঘোষণা দেন, ‘যুদ্ধবিরতির বাকি সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে সকল বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত ঘোষণা করা হলো।’ শিগগিরই ইরানের সঙ্গে চুক্তি হবে, এমন দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। আর এতে অস্থির তেলের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফেরে।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে কার্যত বন্ধ ছিল বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি। এখান দিয়ে মোট সরবরাহের ২৫ শতাংশ তেল পরিবহন করা হয়। বিশ্লেষকদের মত, তেলের দাম কিছুটা কমলেও গত ৫০ দিনে যে ধাক্কা বাজারে লেগেছে, তার প্রভাব থাকবে আগামী বছরগুলোতেও।
যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হচ্ছিল ৭০ ডলারে। গত মার্চে এর দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে পৌঁছেছিল সর্বোচ্চ ১১৯ ডলারে। আজ শনিবার এই দাম নেমে এসেছে ৯০ ডলারে।
কেপলারের তথ্য বলছে, ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ফলে অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেট উৎপাদন কম হয়েছে ৫০ কোটিরও বেশি ব্যারেল। উড ম্যাকেঞ্জির প্রধান বিশ্লেষক ইয়ান মোয়াটের ভাষায়, এই পরিমাণ তেল পুরো বিশ্বের পাঁচদিনের সরবরাহ বন্ধ থাকার সমপরিমাণ; ১১ দিন বিশ্বের সব যানবাহন বন্ধ থাকা এবং ১০ সপ্তাহ বিশ্বের সব বিমান বন্ধ রাখার সমান।
রয়টার্সের তথ্য বলছে, ৫০ কোটি ব্যারেল তেল দিয়ে পূরণ করা যেত যুক্তরাষ্ট্র কিংবা পুরো ইউরোপের প্রায় এক মাসের চাহিদা। একই পরিমাণ তেলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ছয় বছরের চাহিদা মিটত।
ফলে এই সংকটের প্রভাব আগামী বছরগুলোতে বিশ্ববাজারে থাকবে বলেই মনে করেন বিশ্লেষকরা। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি স্থাপনায় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা ঠিক করে পুনরায় পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছাতে মাস কিংবা বছরও লেগে যেতে পারে।

