হজ ক্যাম্প ও প্রথম ফ্লাইট উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

হাজীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: পিএম অফিস
হজ ক্যাম্প এবং হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের প্রথম ফ্লাইটে উঠে হাজীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমে হজ ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন। সেখানে তিনি হাজীদের সঙ্গে কোলাকুলি করেন এবং তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।’
‘পরে প্রধানমন্ত্রী হজের প্রথম ফ্লাইট অর্থাৎ বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে উঠেন এবং হাজীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দোয়া করেন। যাতে তারা সহি সালামতে সৌদি আরবে পৌঁছান। একইসঙ্গে দেশবাসীর জন্য দোয়া করতে হাজীদের অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হজ ক্যাম্প ও হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করলেন।’
‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, হজের সময়ে যেসব সমস্যা হয় তার নিরসনে তার সরকার কাজ করেছে। আগামীতে এই ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।’ - যোগ করেন অতিরিক্ত প্রেস সচিব।
এই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সৌদি রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ, ধর্ম সচিব মুন্সি আলাউদ্দিন আল আজাদ, বেসামরিক বিমান চলাচল সচিব ফাহমিদা আখতার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী প্রথমে রাত ১০টা ৫০ মিনিটে আশকোনা হজ ক্যাম্পে যান। সেখানে হাজীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। পরে সেখানে একটি মেডিকেল ক্যাম্পেরও উদ্বোধন করেন তিনি। এরপর প্রধানমন্ত্রী প্রথম হজ ফ্লাইটে উঠেন এবং হাজীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
রাত ১২টা ২০ মিনিটে ৪১৮ জন হজযাত্রী নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের প্রথম ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হয়।
এর আগে, ধর্ম মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, প্রথম দিন মোট ১৪টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ছয়টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের চারটি ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স চারটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে।
২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করবেন। এদের মধ্যে সরকারি মাধ্যমে ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি মাধ্যম অর্থাৎ হজ এজেন্সির মাধ্যমে ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজ পালনের উদ্দেশ্যে যাবেন।
সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী মোট হজযাত্রীর ৫০ শতাংশ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিবহন করবে। বাকি ৫০ শতাংশের মধ্যে সৌদি আরবের সৌদিয়া ৩৫ শতাংশ আর ফ্লাইনাস ১৫ শতাংশ হজযাত্রী পরিবহন করবে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২৬ মে হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে হতে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে, যা শেষ হবে ১ জুলাই।

