রংপুর
তেলের লাইনে রেখে যাওয়া বাইক, ১২ দিনেও মেলেনি মালিকের খোঁজ

ছবি: আগামীর সময়
ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, তবুও মেলেনি তেল। শেষ পর্যন্ত তেলের লাইনে নিজের মোটরসাইকেল রেখেই চলে যান এক চালক। সেই ঘটনার ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও মেলেনি তার কোনো খোঁজ।
ঘটনাটি রংপুর নগরীর শাপলা চত্বর এলাকার মেসার্স ইউনিক ফিলিং স্টেশনের। গত ৫ এপ্রিল তেল নিতে এসে দীর্ঘ লাইনে মোটরসাইকেলটি রেখে যান ওই চালক। এরপর আর ফিরে আসেননি তিনি।
বেওয়ারিশ অবস্থায় পড়ে আছে মোটরসাইকেলটি। এটি টিভিএস কোম্পানির মেট্রো প্লাস মডেলের। নম্বর প্লেটে লেখা, রংপুর মেট্রো-হ ১১-০৫৭২।
ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা জানান, তেল বিক্রি শুরুর সময় লাইনে মোটরসাইকেলটি দেখা যায়, কিন্তু চালক ছিলেন না। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, তিনি হয়তো আশপাশেই আছেন। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মালিক না ফেরায় লাইনে সমস্যা তৈরি হয় এবং অন্য চালকদের ভোগান্তি বাড়ে। পরে তাদের সহায়তায় মোটরসাইকেলটি লাইন থেকে সরিয়ে পাশে রাখা হয়। রাত গভীর হলেও সেটি সেখানেই পড়ে ছিল। পরে পাম্প বন্ধের সময় পাহারাদারদের জিম্মায় রাখা হয়।
ফিলিং স্টেশনের বিক্রয়কর্মী আলমগীর ইসলামের সঙ্গে কথা হয়। জানালেন, মালিকের অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় পার হলেও কেউ আসেননি। ফলে অন্যদের সুবিধার জন্য মোটরসাইকেলটি সরিয়ে রাখতে হয়েছে। এরপর থেকে আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
এদিকে ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও মালিকের সন্ধান না মেলায় বিপাকে পড়েছে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ।
ইউনিক ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মিজানুর রহমান জানান, মোটরসাইকেলটি নিয়ে তারা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে আছেন। মালিককে খুঁজে বের করতে গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে। দ্রুত তার হাতে গাড়িটি তুলে দিতে পারলেই স্বস্তি মিলবে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে পাম্পে অপেক্ষমান চালকদের কণ্ঠে ক্ষোভ ও হতাশা স্পষ্ট। তাদের অভিযোগ, প্রতিদিনই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হয়, কিন্তু অনেক সময় পাম্পে পৌঁছানোর আগেই তেল শেষ হয়ে যায়। তখন খালি হাতে ফিরতে হয়।
তাদের মতে, এভাবে তেল নিতে হলে মোটরসাইকেল চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।
চালকদের ধারণা, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল না পাওয়ার হতাশা থেকেই হয়তো ওই ব্যক্তি মোটরসাইকেলটি রেখে চলে গেছেন।
রংপুর পেট্রোল পাম্প ডিলারর্স অ্যাজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আজিজুল ইসলাম মিন্টু বলেছেন, প্রতিদিন চাহিদার তুলনায় অর্ধেক তেলও পাওয়া যাচ্ছে না। জেলায় ৪৮টি পাম্প থাকলেও তেল সংকটের কারণে প্রায় ৩০টি পাম্প প্রতিদিন বন্ধ থাকে।
তার মতে, সব পাম্পে নিয়মিত ও সমন্বিতভাবে তেল সরবরাহ করা গেলে এই সংকট অনেকটাই কমে আসবে।

