হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে প্রস্তুতি ইউরোপীয় জোটের

সংগৃহীত ছবি
হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে বড় ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপীয় জোট। এ বিষয়ে এখন থেকেই নেওয়া হচ্ছে পরিকল্পনা। সে লক্ষ্যে প্যারিসে বৈঠক করছে ৪০টিরও বেশি দেশ। এই জোটে ন্যাটোভুক্ত দেশ ছাড়াও রয়েছে জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া। পরিকল্পনায় রয়েছে যুদ্ধজাহাজ, নৌ এসকর্ট, গোয়েন্দা সহায়তা, রাডার ব্যবস্থা এবং মাইন অপসারণ অভিযান। ইতোমধ্যে ওই এলাকায় জাহাজ পাঠিয়েছে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ।
এ উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তাদের ভাষ্য, এই মিশন কোনো যুদ্ধের অংশ নয়, বরং সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক। যেন যুদ্ধ শেষে নৌ চলাচল নিরাপদ হয়।
তবে মিশনটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এতে ইউরোপ আরও বড় সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে বলেও তাদের মত। যদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি না থাকে, তাহলে এমন পদক্ষেপ নেওয়া ঠিক নয়।
এখনই অংশ নিতে চাইছে না জার্মানি। স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, সরকার ও পার্লামেন্টের অনুমোদনের অপেক্ষায় তারা। এ তথ্য জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেৎস।
ইউরোপীয় মিত্রদের ভাষ্য, যুদ্ধ শুরুর আগে তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। কিন্তু পরে প্রণালি সচলের পরিকল্পনা করতে চাপ প্রয়োগ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তারা এ বিষয়ে আগ্রহী নয়।
ন্যটোর এক সূত্রের দাবি, প্রস্তাবিত এই মিশনের আইনি ভিত্তি এখনো পরিষ্কার নয়। সরাসরি ন্যাটোর আওতায় পরিকল্পনা হবে কিনা, তা নিয়েও আছে ধোঁয়াশা। কেননা যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর সদস্য হলেও এ যুদ্ধে কেবল একটি পক্ষ। তাই জোট চায়, মিশনকে নিরপেক্ষ রাখা হোক।
এ পরিকল্পনায়, জাতিসংঘের অনুমোদন নেওয়ার কথা ভাবছে ইউরোপীয় জোট। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌ মিশন ব্যবহারের চিন্তাও রয়েছে। তবে এ পথেও রয়েছে রাজনৈতিক জটিলতা। আর পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভার দাবি, এ পরিকল্পনা এখনও কার্যকর নয়। সমালোচনা করেছেন কিছু বিশ্লেষকও। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইউরোপের শক্তি সীমিত। তবে ইউরোপীয় সরকার বলছে, তারা যুদ্ধ করতে চায় না। তারা শুধু চায়, যুদ্ধ শেষ হলে, আবার শুরু হোক বাণিজ্য।
উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এরপরই হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। পরে ইরানি বন্দর ঘিরে অবরোধ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ফলে পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে প্রণালিটি। বর্তমানে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চলছে। যদিও এ বিরতি দীর্ঘমেয়াদি হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা থাকলেও, সে তথ্য পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।

