টাকা না পেয়ে ঘরের চাল-বেড়া খুলে নিল পাওনাদার

ছবি: আগামীর সময়
নড়াইলে পাওনা টাকা না পেয়ে আসবাবপত্র ও ঘরের টিন খুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তিন যুবকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারটির অভিযোগ, দুই দিন ধরে তাদের বসতবাড়ি, গোয়ালঘর ও রান্নাঘরের চালা, খুঁটি ও টিন এবং আসবাবপত্র নিয়ে গেছেন অভিযুক্তরা।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকালে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, বুধবার ও বৃহস্পতিবার তাদের বাড়িতে এসে আসবাবপত্র ও ঘরের চালা খুলে নিয়েছে অভিযুক্তরা। তাদের দাবি, রুখালী গ্রামের মিকাইল বিশ্বাস, মিজানুর বিশ্বাস, মিরাজ বিশ্বাস ও ইয়াসিন বিশ্বাসসহ কয়েকজন করেছেন এ কাজ।
ঘর না ভাঙতে অনুরোধ জানিয়েছিলেন জাহিদের দাদি খাদিজা বেগম। তবে তার কাকুতি-মিনতি কানে তোলেননি অভিযুক্তরা। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে খাদিজা বেগম বলছিলেন, ‘মানুষ সব আইছে। আমি কইতেছি— ভাইডি তোরা তো ঘরবাড়ি ভাঙতেছিস, ভাঙগিস না। সে (জাহিদ) আস্তে আস্তে দিবেনে। সে পলানী (পলাতক) হয়ে গেছে, এহন কী হরবো। তারা তা মানেনি।’
‘আগের দিন আইসে সব নিয়ে চইলে গেছে, ভ্যান ভরি। পরের দিন আইসে ঘরবাড়ি ভাঙগিছে। ভাইঙ্গে-চুইরে সব নিয়ে গ্যাছে। এহন কি হরবো আমরা!’— নিরুপায় কণ্ঠে বলছিলেন খাদিজা বেগম।
জাহিদের চাচা রসুল সিকদার ঘটনার বর্ণনায় জানিয়েছেন, ‘পরদিন (বৃহস্পতিবার) আইসে দেহি ঘরের চাল খোলতেছে। জিজ্ঞাসা করলাম চাল খুলতেছিস ক্যা? কইলো, জাহিদ পলাই চইলা গ্যাছে, আমার টাকা দিয়ে যায়নি। সেইজন্যি আমার টাকার পরিবর্তে চাল খুইলে নিয়ে যাচ্ছি। যা আছে মাল দেন আমি খুইলে নিয়ে যাবো।’
সরেজমিনে গিয়ে পাওয়া গেল ঘটনার সত্যতা। দেখা গেল, টিনের দোচালা বসতঘরের একপাশে দাঁড়িয়ে আছে শুধুই কয়েকটি খুঁটি। নেই চাল কিংবা বেড়া। খুলে নেওয়া হয়েছে সেগুলো। রান্নাঘরের অবস্থা আরও শোচনীয়। সেখানের খুঁটিগুলোও নেওয়া হয়েছে খুলে। একই অবস্থা গোয়ালঘরেরও।
আগামীর সময় কথা বলেছে অভিযুক্ত মিকাইল বিশ্বাসের সঙ্গে। বাড়ির টিন খুলে নেওয়া কথা অকপটে স্বীকার করেন তিনি। তার ভাষ্য, ‘জাহিদ যারে পাচ্ছে, তার থেকে টাকা-পয়সা নেচ্ছে। আমার থেকে টাকা নেছে, ফেরত দিতে পারেনি। সেটা বড় কথা না, আমার কাছে একটা ফোন ছেল, সেটা চালানোর জন্য নিয়ে অন্য জায়গায় বন্ধক থুইয়ে দেছে। তারপর বাড়ি থেকে পলাই চইলে গেছে।’
‘ওর বাড়িত্তে টিন আমি খুলিছি, সেইটা বেইচে আমার ফোন আমি ছাড়াই নিয়ে আইছি’, স্বীকার করেন তিনি। জানালেন, এ কাজে তার সঙ্গী ছিলেন মিরাজ বিশ্বাস ও ইয়াসিন বিশ্বাস।
ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন নড়াইল সদরের মির্জাপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক সুব্রত কুমার দাস।

