মিরপুরে পোশাকশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ; বন্ধ মেট্রো স্টেশন

পোশাকশ্রমিকরা রাজধানীর মিরপুর ১১ নম্বর এলাকায় সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এসময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। ছবি: শামীম-উস-সালেহীন
রাজধানীর মিরপুরে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আজও আন্দোলনে নেমেছেন পোশাকশ্রমিকরা। তাদের সঙ্গে সংঘর্ষ বেধেছে পুলিশের।
আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রো স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে।
সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে আন্দোলনে অংশ নেন। এ সময় আনুমানিক ৫০০ থেকে ৬০০ শ্রমিক সড়ক অবরোধ করেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রমিকেরা মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রো স্টেশনের নিচে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিরপুর-১০ নম্বর, মিরপুর-১২ নম্বর এবং নান্নু মার্কেট এলাকার বিভিন্ন গলি থেকে শ্রমিকেরা দলে দলে এসে আন্দোলনে যোগ দিতে থাকেন। একপর্যায়ে শ্রমিকদের একটি অংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। কয়েকজন শ্রমিককে লাঠিপেটা করা হয়।
বিক্ষোভের সময় শ্রমিকেরা সড়কে বেঞ্চ ও কাঠের আসবাবপত্র জড়ো করে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে মিরপুর-১১ ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পদক্ষেপ নেয়। তবে শ্রমিকদের একটি অংশ আশপাশের গলিতে অবস্থান করছিলেন তখন।
এদিকে সংঘর্ষ ও নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে মেট্রোরেলের মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশন। এমআরটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, যাত্রী ও স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই স্টেশনে কোনো ট্রেন থামছে না এবং যাত্রী ওঠানামাও বন্ধ রয়েছে। তবে মেট্রোরেলের অন্যান্য স্টেশনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মিরপুর-১১ স্টেশন পুনরায় চালু করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। মিরপুর-১০ গোলচত্বর এলাকাতেও পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে কয়েক দিন ধরে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করে আসছেন পোশাকশ্রমিকেরা। গত শনি ও রোববার মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বর এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন তাঁরা। রোববার শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রো স্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের কথাও জানিয়েছিল পুলিশ।
গতকাল সোমবারও শ্রমিকেরা বিভিন্ন স্থানে সড়কে নামার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এর ধারাবাহিকতায় আজ সকালে আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মিরপুরের পরিস্থিতি।






