কোরবানির বর্জ্য ৮ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করবে ডিএসসিসি

সংগৃহীত ছবি
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নগরবাসীকে একটি পরিচ্ছন্ন ও আনন্দময় ঈদ উপহার দিতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে আজ সোমবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে ঈদের প্রধান জামাতের প্রস্তুতি এবং কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঈদুল আজহার প্রধান জামাত সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সকাল ৮টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে প্রধান জামাত স্থানান্তরিত হবে।
জাতীয় ঈদগাহে এবার ১২১টি কাতারে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন। নারীদের জন্য রাখা হয়েছে আলাদা প্রবেশপথ, অজুখানা ও নামাজের বিশেষ ব্যবস্থা। গরমের কথা মাথায় রেখে পুরো প্যান্ডেলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) ও পর্যাপ্ত ফ্যানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া বিশুদ্ধ পানি, ভ্রাম্যমাণ টয়লেট, প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা এবং নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় সম্পন্ন করা হয়েছে।
ডিএসসিসি জানিয়েছে, ঈদের দিন দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে কলাবাগান এসটিএস (সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে বর্জ্য পরিবহনের কাজ শুরু হবে। প্রথম দিনের বর্জ্য পরবর্তী ৮ ঘণ্টার মধ্যে, অর্থাৎ রাত ৯টা ৩০ মিনিটের মধ্যেই পুরোপুরি অপসারণ করা হবে।
ডিএসসিসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, এ বছর ঈদের তিন দিনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি এলাকায় মোট ৩৩ হাজার ৯৪২ টন বর্জ্য উৎপন্ন হতে পারে। এই বিশাল পরিমাণ বর্জ্য দ্রুত পরিষ্কার করতে মোট ১৩ হাজার ৪৫৩ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাঠে থাকবেন। একই সঙ্গে ব্যবহার করা হবে ট্রাক, কম্প্যাক্টর ও পে-লোডারসহ ২ হাজার ১১৭টি বিভিন্ন ধরণের যান-যন্ত্রপাতি।
জীবাণু দমনে এবার ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডে ৪৬ টন ব্লিচিং পাউডার, ২১০ গ্যালন স্যাভলন ও ১ লাখ ৪০ হাজার বায়োডিগ্রেডেবল (পচনশীল) ব্যাগ বিতরণ করা হচ্ছে।
কোরবানির হাটের কার্যক্রম এবং বর্জ্য অপসারণের পুরো প্রক্রিয়াটি সরাসরি তদারকি করতে ডিএসসিসি দপ্তরে একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। সেখান থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। এ ছাড়া প্রতিটি হাটে আলাদা তদারকি টিম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং মেডিকেল টিম নিয়োজিত থাকবে।
নগরবাসীর প্রতি ডিএসসিসির আহ্বান
নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানি দিয়ে পশুর বর্জ্য ব্যাগে ভরে নির্ধারিত জায়গায় রাখুন। কোরবানি শেষে স্থানটি পানি দিয়ে ধুয়ে ব্লিচিং পাউডার ও স্যাভলন ছিটিয়ে দিন। কোনো অবস্থাতেই ড্রেন বা নর্দমায় বর্জ্য ফেলবেন না।
একটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর ঈদ উদযাপন নিশ্চিত করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নগরবাসীর পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করেছে।






